![]()
মোঃ জাহিদ হাসান, দিনাজপুর নবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ উপলক্ষে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রচনা, আবৃত্তি ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের কথা থাকলেও দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার দিশবন্ধী হাতিশাল দ্বিমুখী ফাজিল স্নাতক মাদ্রাসায় এ ধরনের কোনো কর্মসূচি পালিত হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
জানা যায়, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস যথাযথ মর্যাদায় উদযাপনের লক্ষ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বিভাগ দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দিবসটি উপলক্ষে রচনা, আবৃত্তি ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা আয়োজনের পাশাপাশি আলোচনা সভা করার নির্দেশনা প্রদান করে। একই সঙ্গে দিবসটির ইতিহাস, তাৎপর্য ও গণসচেতনতা সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের অবহিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
তবে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নবাবগঞ্জ উপজেলার দিশবন্ধী হাতিশাল দ্বিমুখী ফাজিল স্নাতক মাদ্রাসায় দিবসটি উপলক্ষে কোনো রচনা প্রতিযোগিতা, আবৃত্তি প্রতিযোগিতা, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা কিংবা আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়নি। ফলে শিক্ষার্থীরা জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ এ দিবসের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকরা।
এলাকাবাসীর দাবি, জাতীয় দিবস এবং সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সমান দায়িত্ব রয়েছে। সরকারি নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও দিবসটির কোনো কর্মসূচি আয়োজন না হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে জনমনে প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভবিষ্যতে জাতীয় দিবসগুলো যথাযথভাবে পালনের দাবি জানান।
এ বিষয়ে নবাবগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার দীপক কুমার বণিক বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দিবসটি পালন করা বাধ্যতামূলক। রচনা, আবৃত্তি ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা এবং আলোচনা সভাসহ নির্ধারিত কর্মসূচি বাস্তবায়নের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কোনো প্রতিষ্ঠান যদি নির্দেশনা অমান্য করে কর্মসূচি পালন না করে থাকে, তাহলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
তিনি আরও বলেন, “জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ দিবসগুলো যথাযথ মর্যাদায় পালন করা প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সম্পর্কে জানতে পারে।”
অভিযোগের বিষয়ে দিশবন্ধী হাতিশাল দ্বিমুখী ফাজিল স্নাতক মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আব্দুল বাতেনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে এ বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
তবে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জাতীয় দিবসের কর্মসূচি যথাযথভাবে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আরও কার্যকর তদারকি প্রয়োজন। একই সঙ্গে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানিয়েছেন তারা।



মন্তব্য