বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট ২০২৬
 

সৌদিতে বাংলাদেশি যুবকের মানবপাচারের অভিযোগ, দালাল চক্রের বিরুদ্ধে বিচার দাবি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ৫ আগস্ট ২০২৬

 ---

মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন সৌদি আরব প্রতিনিধি

আরব ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা নিয়ে বিদেশে পাঠিয়ে একাধিক দালালের কাছে বিক্রির অভিযোগ; ৬–৭ মাস ধরে মানবেতর জীবন।সৌদি আরবে অবস্থানরত এক বাংলাদেশি যুবক মানবপাচার ও প্রতারণার শিকার হওয়ার গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তার দাবি, প্রলোভন দেখিয়ে তাকে বিদেশে পাঠিয়ে একাধিক দালালের মাধ্যমে বারবার বিক্রি করা হয়েছে এবং বর্তমানে তিনি চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, দিনাজপুর জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার ভাদুরিয়া বাজার (হিন্দু পাড়া) এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম ২০২৫ সালের জুন মাসে তাকে সৌদি আরবে পাঠানোর প্রলোভন দেখান। প্রথমে তার পরিবারের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তুলে বিশ্বাস অর্জন করেন এবং পরে বিদেশে ভালো চাকরি ও দ্রুত আকামার আশ্বাস দিয়ে তাকে রাজি করান। এই প্রক্রিয়ায় মোঃ মজিদ ইসলাম (গ্রাম: হরিনাথপুর, থানা: নবাবগঞ্জ, জেলা: দিনাজপুর) এর কাছ থেকে সরাসরি মোট ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা নেওয়া হয়।

তবে পরবর্তীতে তাকে বিরামপুর এলাকার আল আমিন নামের এক দালালের কাছে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়। এরপর আল আমিন তাকে ঢাকার রাকিবুল নামের আরেক ব্যক্তির কাছে হস্তান্তর করেন, যিনি সৌদি আরবের ভিসার ব্যবস্থা করে তাকে পাঠান। ভুক্তভোগীর ভাষ্য, যে ভিসার মাধ্যমে তাকে সৌদি পাঠানো হয়, সেটি কাগজে বৈধ থাকলেও সংশ্লিষ্ট কোম্পানির বাস্তবে কোনো অস্তিত্ব নেই। সৌদিতে পৌঁছানোর পর তাকে সজিব নামের এক দালালের কাছে রাখা হয়, যিনি তাকে ২ হাজার রিয়ালের বিনিময়ে আব্দুল্লাহ নামের আরেক দালালের কাছে বিক্রি করেন। পরবর্তীতে আব্দুল্লাহ তাকে একটি কোম্পানিতে কাজের ব্যবস্থা করে দিলেও সেখানে তার কোনো আকামা (আইনি বৈধতা) করা হয়নি। অথচ তাকে ৩ দিনের মধ্যে আকামা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। উক্ত কোম্পানিতে প্রায় পাঁচ মাস কাজ করার পর কাজের সংকট দেখিয়ে কোম্পানি তাকে সহ প্রায় ৫০ জন বাংলাদেশিকে চাকরি থেকে বের করে দেয়।

এরপর তিনি দালালদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে কেউ তার দায়িত্ব নেয়নি। পরে ঢাকার রাকিবুলের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাকে রিয়াদে যেতে বলা হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর তার কাছ থেকে আরও ১ হাজার রিয়াল নেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, রিয়াদে এক মাস অবস্থানকালে তাকে কোনো ধরনের খাবার বা সহায়তা দেওয়া হয়নি। তিনি বাধ্য হয়ে পরিবারের কাছ থেকে টাকা এনে দিনে একবেলা খাবার খেয়ে বেঁচে ছিলেন। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী জানান, আকামার ব্যবস্থা করার অনুরোধ করলে তাকে ভয়ভীতি দেখানো হয় এবং রাজনৈতিক প্রভাবের কথাও বলা হয়।

এরপর থেকে প্রধান অভিযুক্ত তার সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। বর্তমানে ভুক্তভোগী প্রায় ৬ থেকে ৭ মাস ধরে চরম কষ্টে জীবনযাপন করছেন। তিনি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন: মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম (নবাবগঞ্জ, দিনাজপুর), আল আমিন (বিরামপুর), রাকিবুল (ঢাকা), সজিব (সৌদি আরব) এবং আব্দুল্লাহ (সৌদি আরব)। এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী।

মন্তব্য

সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর

Developed By: Dotsilicon