![]()
মোঃ হেলাল উদ্দীন, নাচোল (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ
চোখে মুখে ক্লান্তি নেই, থামারও যেন ফুসরত নেই। কথা বলতে পারেন না, সোজা হয়ে স্বাভাবিক মানুষের মত হাঁটতেও পারেন না, তবুও বসে থাকার পাত্র নন তিনি। নিজের শারীরিক অক্ষমতাকে এক পাশে ঠেলে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে দৌড়ে একটি বিয়ারিং এর চাকা লাগানো কাঠ- বাঁশের গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছেন শাহীন নামের এক বাক ও শারীরিক প্রতিবন্ধী যুবক। দিনরাত ২৪ ঘন্টা তার এই অবিরাম ছুটে চলা এলাকার মানুষের মধ্যে এক অদ্ভুত ও করুন দৃশ্যের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার নাচোল উপজেলার কসবা ইউনিয়নের মহিষপুর গ্রামের গেদু আলির ৩ ছেলের মধ্যে বড় ছেলে শাহীন (২৫) জন্ম থেকেই বাক ও শারীরিক প্রতিবন্ধকতার শিকার। তবে ৭ বছর বয়স হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শাহিনের এ গাড়ি নিয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে দৌড়ানোর প্রবণতা আরো বেড়ে যায়। গেদু আলি বলেন, চোখের আড়াল হলেই শাহিন বিয়ারিং এর গাড়ি নিয়ে রাস্তায় বের হয়ে যায়। দিনের পর দিন এভাবে গাড়ি নিয়ে দৌড়ানোর কারণে তার হাতেও পায়ে প্রচণ্ড চাপ পড়ে এবং শরীরও দিন দিন দুর্বল হয়ে পড়ছে। যেকোনো সময় রাস্তায় বড় কোন গাড়ির নিচে চাপা পড়ে দুর্ঘটনা ঘটার ঝুঁকি রয়েছে।
সাধারণত শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা বসে বা হুইল চেয়ারে চলাচল করলেও শাহিনের গল্পটা ভিন্ন। মাটিতে সোজা হয়ে দাঁড়াতে না পারলেও একটি বিয়ারিং এর গাড়ি শক্ত করে ধরে দিনরাত টেনে নিয়ে বেড়ান তিনি। বৃষ্টি কিংবা গভীর রাত কোন কিছুই তোয়াক্কা করেন না শাহীন। ২৪ ঘন্টার একটি বড় সময় ধরে তাকে এই গাড়ি নিয়ে তীব্র গতিতে গ্রামীণ ও আঞ্চলিক সড়কগুলোতে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে ছুটতে দেখা যায়। তার এই একটানা পথ চলার নির্দিষ্ট কোন গন্তব্য নেই। যেন চাকার ঘূর্ণায়নের গতিতেই লুকিয়ে আছে তার জীবনের সব না বলা ভাষা।
নাচোল উপজেলা শাখা, মানবাধিকারের সাধারণ সম্পাদক মোঃ হেলাল উদ্দীন গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, শাহীন নামের এই বাক ও শারীরিক প্রতিবন্ধী যুবকটি যেভাবে দিনরাত বিয়ারিং এর গাড়ি নিয়ে দৌড়ে বেড়াচ্ছে, তা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং একই সাথে অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। এভাবে অনিয়ন্ত্রিতভাবে চলাফেরা করার কারণে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। একজন মানুষ হিসাবে তার নিরাপদ ও সুস্থভাবে বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারাও হেলাল উদ্দীনের এ বক্তব্যের সাথে একাত্মবোধ প্রকাশ করে শাহিনের এই কষ্টময় ও ঝুঁকিপূর্ণ জীবনের অবসান ঘটাতে দ্রুত সরকারি ও বেসরকারি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।



মন্তব্য