![]()
জাবি প্রতিনিধি
দীর্ঘ ৩৩ বছর পর গত বছরের ১১ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হয় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) নির্বাচন। নির্বাচনে সহ-সভাপতি (ভিপি) নির্বাচিত হন আব্দুর রশিদ জিতু এবং সাধারণ সম্পাদক (জিএস) মাজহারুল ইসলাম। তবে জাকসুর মেয়াদের ৩ মাস বাকী থাকতেই ভিপি ও জিএসের ছাত্রত্ব শেষ হয়েছে। তাই পরবর্তী জাকসুর ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হয়েছে আশংকা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক সূত্রে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জাকসুর ভিপি আব্দুর রশিদ জিতু বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০১৭–২০১৮ শিক্ষা বর্ষের শিক্ষার্থী এবং জিএস মাজহারুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ২০১৮–২০১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। নিয়মিত শিক্ষার্থী হিসাবে তাদের ছাত্রত্ব জাকসু নির্বাচনের আগে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও জাকসু নির্বাচনকে সামনে অনিয়মিত শিক্ষার্থী হন দু’জনেই।
নির্বাচিত হওয়ার পর জিএস মাজহার অনিয়মিত শিক্ষার্থী হিসাবে পরবর্তী ব্যাচের সাথে ২০২৬ সালের মে মাসের মাঝামাঝিতে তার কোর্সের পরীক্ষা সম্পন্ন করেন। ন্যদিকে ভিপি জিতু তার স্নাতকোত্তর পরীক্ষার ৫০৪ নম্বর কোর্স অনিয়মিত শিক্ষার্থী হিসাবে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করেননি। ফলে ছাত্রত্বের বৈধতা হারিয়েছেন তিনি। শ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিস সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ম অনুযায়ী স্নাতক সম্পন্ন করতে চার বছরে সাথে অতিরিক্ত দুই বছর এবং স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করতে এক বছরের কোর্সের সাথে অতিরিক্ত এক বছর দেওয়া হয়। তবে এ নিয়মে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ছাত্রত্বের বৈধতা হারিয়েছে জাকসু ভিপি জিতুর। তিনি তার বিভাগের ৪৮তম ব্যাচের সঙ্গে স্নাতকোত্তর শেষ করতে পারেননি। অন্যদিকে, গত মাসে অর্থাৎ মে মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজ বিভাগের ৪৯তম ব্যাচের সঙ্গে থিসিস জমা দিয়ে ছাত্রত্ব শেষ করেন জাকসু জিএস মাজহার।
শিক্ষার্থীদের ছাত্রত্ব শেষের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার (শিক্ষা) সৈয়দ মোহাম্মদ আলী রেজা বলেন, শিক্ষার্থীদের স্নাতকোত্তর পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার ৭ দিনের মধ্যে ক্লিয়ারেন্স শেষে হল ছাড়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে ছাত্র শৃঙ্খলা বিধিতে। কেউ যদি স্নাতকোত্তর পর্যায়ে ১ বছররে মধ্যে কোর্স শেষ করতে ব্যর্থ হয় তবে সে আর নিয়মিত শিক্ষার্থী থাকেনা। সে অনিয়মিত পরীক্ষার্থী হিসাবে বিবেচিত হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক শামীমা সুলতানা বলেন, জিতুর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে একটি কোর্সের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেনি। ফলে স্বাভাবিক নিয়মে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ নেই তার। তাকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করতে বিধি অনুযায়ী উপাচার্যের অনুমতি সাপেক্ষে বিশেষ পরীক্ষা দিতে হবে। শ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ রায়হান শরীফ বলেন, ‘মাজহার তার একাডেমি কার্যক্রম শেষ করেছেন। ফলাফলের অপেক্ষায় আছেন।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসানের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।



মন্তব্য