![]()
পাথরঘাটা (বরগুনা) প্রতিনিধি:
বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে মাছ ধরার ট্রলার ও পণ্যবাহী ছোট জাহাজ থেকে নিয়মিত মাসোহারা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। মামলা দেওয়ার ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের এ অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে জেলের ছদ্মবেশে অনুসন্ধানে নামে একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল (আরটিভি)। অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, গোপন ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিওতে চাঁদা নেওয়ার দৃশ্য ধরা পড়েছে।
স্থানীয় জেলে ও ট্রলার-সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, চরদুয়ানী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির কিছু সদস্য দীর্ঘদিন ধরে নদী ও সাগরে চলাচলকারী মাছ ধরার ট্রলার এবং পণ্যবাহী ছোট জাহাজ থেকে প্রতি মাসে দুই থেকে তিন হাজার টাকা করে আদায় করছেন। অভিযোগ রয়েছে, নির্ধারিত অর্থ না দিলে মামলা দিয়ে হয়রানি কিংবা বড় অঙ্কের জরিমানার ভয় দেখানো হয়।
অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, জেলের ছদ্মবেশে থাকা সাংবাদিকদের কাছ থেকেও মামলার ভয় দেখিয়ে নগদ ও বিকাশের মাধ্যমে অর্থ নেওয়া হয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এএসআই কবির হোসেন নামে এক পুলিশ সদস্য ওই অর্থ গ্রহণ করেন। পরে তার বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি মুঠোফোনে কথা বলেন এবং সেই কথোপকথনের কল রেকর্ডও সংরক্ষিত রয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়।
এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত এবং আইনগত ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী। তিনি বলেন, “জেলেদের নিরাপদ ও হয়রানিমুক্তভাবে মাছ ধরার পরিবেশ নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।”
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, তথ্য-প্রমাণ নিয়ে সংশ্লিষ্ট টেলিভিশনের অনুসন্ধানী দল চরদুয়ানী নৌ-পুলিশ ফাঁড়িতে গেলে দায়িত্বরত কয়েকজন সদস্য ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান।
তবে চরদুয়ানী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. গজ গভীর মিয়া ক্যামেরার সামনে চাঁদাবাজির অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ বিষয়ে পাথরঘাটা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা হাসিবুল হক বলেন, জেলেদের কাছ থেকে নৌ-পুলিশের অর্থ নেওয়ার বিষয়ে আগেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। সম্প্রতি প্রকাশিত ভিডিওচিত্রটিও তিনি দেখেছেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে, যাতে জেলেরা নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে মাছ ধরতে পারেন।
স্থানীয় জেলেদের ভাষ্য, সমুদ্রে জলদস্যুর আতঙ্কের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু অসাধু সদস্যের হয়রানির অভিযোগ তাদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তুলেছে। তারা নদী ও সাগরপথে চাঁদাবাজি বন্ধ করে জেলেদের জন্য নিরাপদ ও হয়রানিমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
উপজেলা মৎস্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, পাথরঘাটা উপজেলায় নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ১৬ হাজার ৮২০ জন। তবে জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির দাবি, নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত মিলিয়ে এ উপজেলায় প্রায় ৩০ হাজার জেলে জীবিকা নির্বাহ করেন।



মন্তব্য