মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬
 

জাবিতে সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাঁধা, গালিগালাজ ও হুমকির অভিযোগ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ মে ২০২৬

---

জাবি প্রতিনিধি

​জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের হেনস্তা, অশালীন আচরণ এবং হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একদল শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। এসব ঘটনায় ক্যাম্পাসে স্বাধীন সাংবাদিকতা, মুক্তচিন্তা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে

​রোববার (১৭ মে) সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসের সামনে একদল সাংবাদিক পেশাগত দায়িত্ব পালন করছিলেন। এ সময় উত্তেজিত কয়েকজন শিক্ষার্থী প্রক্টরকে আক্রমণ করতে উদ্যত হলে সাংবাদিকরা সেই ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে নৃবিজ্ঞান বিভাগের ৪৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী নূরে তামিম স্রোতসহ বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারী সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন বলে অভিযোগ ওঠে।

 

​পরবর্তীতে এই ভিডিও গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে, সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমকর্মীদের ক্যারিয়ার ধ্বংস করার হুমকিসহ নানাবিধ উসকানিমূলক বক্তব্য দেন অর্থনীতি বিভাগের ৫২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী নাজিহা নাওয়ার। এ সময় পেছন থেকে আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী তাকে উসকানি দেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

 

​এমন অবমাননাকর আচরণের তীব্র নিন্দা জানিয়ে সাংবাদিকরা বলেন, ধারাবাহিক এসব ঘটনার মাধ্যমে ক্যাম্পাসে স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়ছে।

 

​জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি ও বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) জাবি প্রতিনিধি আল মামনুন (মাহ্ আলম) বলেন, ‘প্রক্টর অফিসের সামনে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে কতিপয় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে অবমাননাকর ভাষায় গালিগালাজ করেন। এমন আচরণের তীব্র নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মুক্তচিন্তা, বাকস্বাধীনতা ও স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিতে প্রশাসনকে অবিলম্বে কার্যকরী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।’

 

​আজকের পত্রিকার জাবি প্রতিনিধি মুশফিক রিজওয়ান বলেন, ‘প্রক্টর অফিসের সামনে সাংবাদিকরা পেশাগত দায়িত্ব পালন করছিলেন। সেখানে একটি দোকানের কর্মচারীর ভিডিও ধারণকে কেন্দ্র করে পুরো দায় সাংবাদিকদের ওপর চাপিয়ে দিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। সারাদিন কষ্ট করে কাজ করার পর যদি এমন আচরণ সহ্য করতে হয়, তবে কাজের স্পৃহা নষ্ট হয়ে যায়।’

 

​দৈনিক যুগান্তরের জাবি প্রতিনিধি ও জাবি প্রেসক্লাবের কার্যকরী সদস্য রাশেদুল ইসলাম বলেন, ‘প্রক্টর অফিসে বহিরাগত আটকের খবর পেয়ে সংবাদ সংগ্রহের জন্য আমরা সেখানে উপস্থিত হই। একপর্যায়ে আন্দোলনকারীরা প্রক্টরের দিকে মারমুখীভাবে তেড়ে আসেন। পরে প্রক্টর উপাচার্যের গাড়িতে করে স্থান ত্যাগ করেন। সম্পূর্ণ অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে আমাদের উদ্দেশ্যে কয়েকজন শিক্ষার্থী অত্যন্ত নোংরা ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে। আমরাও এই বিশ্ববিদ্যালয়েরই শিক্ষার্থী, তাদের কাছ থেকে এমন আচরণ মোটেও প্রত্যাশিত নয়।’

 

​এদিকে, একই দিন দুপুরে সাংবাদিকদের পেশাগত কাজে বাধা দেওয়ার আরেকটি ঘটনা ঘটে। এনটিভি অনলাইনের জাবি প্রতিনিধি আকিব সুলতান অর্নব বলেন, ‘জরুরি সংবাদ সংগ্রহের কাজে রেজিস্ট্রার ভবনের একটি নির্দিষ্ট বিভাগে যাওয়ার প্রয়োজন ছিল। প্রবেশের সময় আমার প্রাতিষ্ঠানিক ও পেশাগত পরিচয় দেওয়ার পরও আমাকে ভেতরে ঢুকতে না দিয়ে জোরপূর্বক বের করে দেওয়া হয়। এটি গণমাধ্যমের কাজের প্রতি স্পষ্ট অসহযোগিতা।’

​সন্ধ্যার ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসানের কাছে তাৎক্ষণিকভাবে মৌখিক অভিযোগ জানান উপস্থিত সাংবাদিকেরা।

 

​এ বিষয়ে উপাচার্য বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ আসলে নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে যথাযথ ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’

মন্তব্য

সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর

Developed By: Dotsilicon