![]()
বাহাউদ্দীন তালুকদার
রাজধানীর মিরপুরের শেওড়াপাড়ায় প্রায় ৫ কাঠা জমির মালিকানা ও দখলকে কেন্দ্র করে দুই সহোদর ভাইয়ের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ প্রকাশ্যে এসেছে। এ বিরোধের জেরে ছোট ভাই মো. আলমগীর হোসেন ওরফে অ্যাপোলোর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন বড় ভাই আলহাজ্ব মো. মুকুল আমিন। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) মিরপুর প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মুকুল আমিন দাবি করেন, শেওড়াপাড়ার ৫৯৩/এ এলাকায় মেট্রোরেলের ৩২০ নম্বর পিলারের পাশে অবস্থিত প্রায় ৫ কাঠা জমি তাদের পিতা মরহুম আলহাজ্ব আব্দুল মালেকের রেখে যাওয়া সম্পত্তির অংশ। জমিটির বৈধ মালিকানা সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তার কাছে রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তবে প্রভাব খাটিয়ে তাকে দীর্ঘদিন ধরে জমির দখল ও ভোগদখল থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, জমি নিয়ে বিরোধের সূত্র ধরে তার ছোট ভাই আলমগীর হোসেন অ্যাপোলো ও তার সহযোগীরা জমিটি নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন। এ নিয়ে তাকে এবং তার পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, হুমকি ও বিভিন্ন ধরনের হয়রানির শিকার হতে হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। এ সময় তিনি কয়েকজন ব্যক্তির নামও উল্লেখ করেন। মুকুল আমিনের অভিযোগ, জমি নিয়ে বিরোধের কারণে তার ওপর ও পরিবারের সদস্যদের ওপর একাধিকবার হামলার ঘটনা ঘটেছে। এমনকি প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তিনি থানাসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক দপ্তরে একাধিকবার অভিযোগ করলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর প্রতিকার পাননি বলে জানান। সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও দাবি করেন, আলমগীর হোসেন অ্যাপোলো অতীতে রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাব ব্যবহার করে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করেছেন। তিনি অ্যাপোলোকে জার্মান শাখা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে উল্লেখ করেন এবং তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে বলেও দাবি করেন। এছাড়া গত ৭ আগস্ট তিনি দেশ ত্যাগ করেছেন বলেও অভিযোগ করেন মুকুল আমিন। তবে রাজনৈতিক কিংবা অপরাধসংক্রান্ত এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা এই প্রতিবেদকের পক্ষে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অভিযোগগুলোর বিষয়ে কোনো আদালতের রায়, তদন্ত প্রতিবেদন বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এদিকে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগের বরাত দিয়ে মুকুল আমিন দাবি করেন, বিরোধপূর্ণ জমি ও আশপাশের এলাকায় রাতের বেলায় বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়। সেখানে মাদক বা অন্য কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সংঘটিত হচ্ছে কি না, তা তদন্ত করে দেখার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি। তিনি আরও অভিযোগ করেন, জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলমান থাকা অবস্থায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হলেও তা যথাযথভাবে মানা হয়নি। রাজউকের অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী নির্মাণকাজ পরিচালিত হচ্ছে কি না, সে বিষয়েও তদন্তের দাবি জানান তিনি। সংবাদ সম্মেলনের পর কয়েকজন সংবাদকর্মী সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গেলে সেখানে প্রবেশে বাধার সম্মুখীন হওয়ার অভিযোগ ওঠে। এ সময় দায়িত্বে থাকা এক ব্যক্তির সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সংবাদকর্মীদের প্রবেশে আপত্তি জানান। কথোপকথনের সময় সংবাদকর্মীদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়। সংশ্লিষ্ট কথোপকথনের অডিও রেকর্ড সংরক্ষিত রয়েছে বলে জানা গেছে। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে বিরোধের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেলেও, সেখানে মাদক বা অন্য কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হওয়ার অভিযোগের স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের মতে, এ বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য উদ্ঘাটন হওয়া প্রয়োজন। সংবাদ সম্মেলনে আলহাজ্ব মো. মুকুল আমিন বলেন, “আমার কাছে জমির বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও আমি ন্যায়বিচার পাচ্ছি না। আমি চাই প্রশাসন নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত মালিকানা ও দখলের বিষয়টি নির্ধারণ করুক এবং আমাকে আমার ন্যায্য অধিকার ফিরিয়ে দিক।”অভিযোগের বিষয়ে মো. আলমগীর হোসেন ওরফে অ্যাপোলোর বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে যথাযথ গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে। স্থানীয়দের দাবি, জমির মালিকানা ও দখল সংক্রান্ত সকল নথিপত্র যাচাই-বাছাই করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বিরোধের দ্রুত নিষ্পত্তি করা হোক। পাশাপাশি উত্থাপিত অন্যান্য অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।প্রসঙ্গত, প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগসমূহ সংবাদ সম্মেলনে আলহাজ্ব মো. মুকুল আমিনের উপস্থাপিত বক্তব্যের ভিত্তিতে তুলে ধরা হয়েছে। অভিযোগগুলোর চূড়ান্ত সত্যতা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।



মন্তব্য