বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
 

দেবীদ্বারে গোমতী ও মেঘনার বালু লুটে ৪ গ্রামের কৃষি জমি বিলীনের পথে

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 ---

কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি:
কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলায় গোমতী নদী, মেঘনা নদীসহ বিভিন্ন নদী থেকে অবৈধভাবে বালু কেটে এনে বিশাল বাণিজ্য গড়ে তুলেছে একটি প্রভাবশালী চক্র। চক্রটি নদী থেকে বালু চুরি করে এনে গোমতী নদীর তীরবর্তী ও আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় বিশাল বিশাল বালু মহালের স্তুপ বানিয়ে সাজিয়ে রেখেছে। এই চুরির বালু দিয়ে পুরো ফতেহাবাদ, খলিলপুর, সুবিল ও আব্দুল্লাহপুর এলাকার তিন ফসলি কৃষি জমি ভরাট করার মহোৎসব চলছে। অভিযুক্তরা স্থানীয়ভাবে চরম প্রভাবশালী হওয়ায় ভয়ে সাধারণ মানুষ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে এই অসাধু চক্রটি সম্পূর্ণ অবৈধ উপায়ে বিভিন্ন ট্রলারে করে মেঘনা ও গোমতী নদী থেকে বালু কেটে নিয়ে আসছে। পরবর্তীতে আব্দুল্লাহপুর-কোম্পানীগঞ্জ সড়ক সংলগ্ন এলাকাসহ ফতেহাবাদ, খলিলপুর ও সুবিলের ফসলি জমির পাশে শক্তিশালী ড্রেজার বসিয়ে দেদারসে আবাদি জমি ভরাট করছে তারা।
ড্রেজারের অনবরত কম্পন, অপরিকল্পিত বালু ভরাট এবং যত্রতত্র বালুর স্তুপ করে রাখার কারণে আশপাশের গ্রামীণ সড়ক ও সাধারণ মানুষের বসতভিটা ধসের মুখে পড়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, প্রভাবশালী এই চক্রটির ভয়ে পুরো এলাকায় এক ধরনের আতঙ্ক বিরাজ করছে। সাধারণ কৃষকেরা তাদের একমাত্র সম্বল আবাদি জমি ও পরিবেশ রক্ষার্থে বাধা দিতে গেলে তাদেরকে বিভিন্ন প্রকার ভয়ভীতি, মামলা-হামলা ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। চক্রটির ক্ষমতার দাপটের কাছে অসহায় হয়ে পড়েছেন সাধারণ চাষিরা। যার কারণে চরম ক্ষতি হওয়া সত্ত্বেও প্রকাশ্যে কেউ মুখ খোলার সাহস পাচ্ছেন না।
প্রচলিত ‘বালু মহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০’ অনুযায়ী নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, যত্রতত্র স্তুপ করে রাখা এবং ড্রেজার দিয়ে ফসলি জমি ভরাট করা সম্পূর্ণ দণ্ডনীয় অপরাধ হলেও কোন কিছুর তোয়াক্কা করছে না এই প্রভাবশালী মহল।
এলাকাবাসীর জোর দাবি, এই বালুগুলো আদৌ কোনো বৈধ ইজারাদারের  মাধ্যমে আনা হয়েছে, নাকি মেঘনা ও গোমতী নদী থেকে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে চুরি করে এনে এখানে স্তুপ করা হয়েছে—তা যেন দেবীদ্বার উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) গভীরভাবে তদন্ত করে দেখেন।
ভুক্তভোগী নিরীহ গ্রামবাসীদের দাবি, কৃষকদের একমাত্র সম্বল তিন ফসলি জমি ও গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষার্থে উপজেলা প্রশাসন যেন দ্রুত ও গোপনে সরজমিনে তদন্ত করে। গোমতী ও মেঘনা নদী রক্ষা এবং প্রভাবশালীদের এই অবৈধ ড্রেজার বাণিজ্য ও বালুর স্তুপ উচ্ছেদে অবিলম্বে মোবাইল কোর্ট (ভ্রাম্যমাণ আদালত) পরিচালনা করাসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্থানীয় এলাকাবাসী দেবীদ্বার উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) দ্রুত ও জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

মন্তব্য

সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর

Developed By: Dotsilicon