বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
 

নয়াদিগন্তে প্রকাশিত প্রতিবেদনকে অসত্য ও বিভ্রান্তিকর দাবি করে প্রতিবাদ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 ---

গত ২ সেপ্টেম্বর দৈনিক নয়াদিগন্তে প্রতিবেদক খালিদ সাইফুল্লাহর করা ‘হাসিনার কার্যালয়ের পরিচালক এখন ইফার হাজার কোটি টাকার প্রকল্পের পরিচালক’ শীর্ষক প্রতিবেদনের প্রতিবাদ জানিয়েছেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ‘নৈতিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ উন্নয়নে মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম’ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের যুগ্মসচিব এস এম তরিকুল ইসলাম। ৩ সেপ্টেম্বর দৈনিক নয়াদিগন্তের সম্পাদক ও প্রকাশকের কাছে পাঠানো এক প্রতিবাদপত্রে তিনি প্রতিবেদনে প্রকাশিত তথ্যকে ‘পক্ষপাতদুষ্ট, অসম্পূর্ণ, তথ্যবিভ্রাটপূর্ণ ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করেন।

প্রতিবাদপত্রে এস এম তরিকুল ইসলাম বলেন, প্রকাশিত প্রতিবেদনের মাধ্যমে তাঁর দীর্ঘদিনের পেশাগত সুনাম ও সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার পাশাপাশি সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি ২০তম বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের একজন কর্মকর্তা উল্লেখ করে বলেন, সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অর্পিত দায়িত্ব পালন করা তাঁর পেশাগত ও আইনগত দায়িত্ব। তাই একজন সরকারি কর্মকর্তার স্বাভাবিক পদায়নকে রাজনৈতিক পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত করে উপস্থাপন করা প্রশাসনিক কাঠামো ও পেশাদার সরকারি ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। একই সঙ্গে প্রতিবেদনে কর্মী হেনস্তা, বরখাস্ত এবং অবৈধ সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলেও তিনি দাবি করেন। তাঁর ভাষ্য, ইসলামিক ফাউন্ডেশন বা সংশ্লিষ্ট প্রকল্পে কর্মী নিয়োগ, বদলি কিংবা কোনো আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ কোনো একক ব্যক্তির সিদ্ধান্তে হয় না; বরং নির্ধারিত প্রশাসনিক কাঠামো, বিধিবিধান ও প্রচলিত আইন অনুসরণ করেই এসব কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

খুলনার একটি ঘটনার বিষয়ে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে প্রতিবাদপত্রে উল্লেখ করা হয়। সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে বিধি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ফিল্ড অফিসারকে বদলি করা হয়েছে। তবে তদন্তাধীন ওই প্রশাসনিক বিষয়টিকে প্রতিবেদনে বিভ্রান্তিকরভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে দাবি করেন প্রকল্প পরিচালক এস এম তরিকুল ইসলাম। প্রতিবাদপত্রে বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের আচরণবিধির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে সততা, নিরপেক্ষতা ও বস্তুনিষ্ঠতা বজায় রাখা প্রয়োজন। যথাযথ তথ্য ও প্রমাণ যাচাই না করে গুরুতর কোনো অভিযোগ প্রকাশ করা সাংবাদিকতার মৌলিক নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

এ ছাড়া প্রতিবাদপত্রে দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ৪৯৯ ও ৫০০ ধারা এবং দ্য প্রেস কাউন্সিল অ্যাক্ট, ১৯৭৪-এর প্রসঙ্গ উল্লেখ করে আইনগত প্রতিকারের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়, ‘ভিত্তিহীন তথ্য প্রকাশের মাধ্যমে আমার পেশাগত সুনাম ও ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে, যা প্রচলিত আইনে প্রতিকারযোগ্য।’ একই সঙ্গে দৈনিক নয়াদিগন্তের মুদ্রিত ও অনলাইন সংস্করণে একই গুরুত্ব ও সমপরিমাণ জায়গায় প্রতিবাদলিপি প্রকাশের পাশাপাশি পত্রিকাটির অনলাইন পোর্টাল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অফিশিয়াল পেজ থেকে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন প্রত্যাহার ও সংশোধনের অনুরোধ জানানো হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবাদলিপি প্রকাশ এবং প্রকাশিত তথ্য সংশোধন করা না হলে পেশাগত ভাবমূর্তি রক্ষায় বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলসহ প্রচলিত আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও প্রতিবাদপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

মন্তব্য

সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর

Developed By: Dotsilicon