বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
 

দেবিদ্বারে সড়ক উন্নয়নে বড় অনিয়মের অভিযোগ, শত কোটি টাকার কাজ নিয়ে প্রশ্ন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 ---

দেবিদ্বার (কুমিল্লা) প্রতিনিধি

কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) চলমান প্রায় শত কোটি টাকার সড়ক উন্নয়ন কাজে নজিরবিহীন দুর্নীতি, অনিয়ম এবং সরকারি অর্থ লোপাটের চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। নতুন রাস্তা নির্মাণে সরকারি সিডিউল তোয়াক্কা না করে নিম্নমানের সুরকি ও ইটের রাবিশ ব্যবহারের তথ্য একাধিক গণমাধ্যমে প্রকাশের পরও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অশোক বিক্রম চাকমা আইন অনুযায়ী কোনো পদক্ষেপ নেননি। উল্টো অভিযোগ উঠেছে, এই প্রকাশ্য অনিয়ম দেখেও না দেখার ভান করে ঠিকাদারদের সাথে গভীর যোগসাজশ গড়ে তুলেছেন তিনি। মাঠ পর্যায়ে কাজ অত্যন্ত নিম্নমানের হওয়া সত্ত্বেও প্রতি বিল থেকে সরাসরি ১০ শতাংশ (১০%) কমিশন বা পিসি বাণিজ্যের মাধ্যমে তিনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিল ছাড় করে দিচ্ছেন। প্রশাসনের সর্বোচ্চ কর্মকর্তার এমন প্রত্যক্ষ আর্থিক দুর্নীতি ও নীরব ভূমিকা নিয়ে পুরো উপজেলায় তীব্র ক্ষোভ ও চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।স্থানীয় এলজিইডি ও সড়ক সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পুরো দেবিদ্বার উপজেলাজুড়ে গ্রামীণ সড়ক টেকসইকরণের লক্ষ্যে প্রায় শত কোটি টাকার বিশাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু শুরু থেকেই সরকারি প্রাক্কলন (সিডিউল) উপেক্ষা করে নামমাত্র সামগ্রী ব্যবহার করে বরাদ্দ লুটের মহোৎসব চলছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, সুবিল আব্দুল্লাহপুর থেকে রসুলপুর বাজার পর্যন্ত ২৬ কোটি টাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়কটিতে অত্যন্ত নিম্নমানের সুরকি ও ইটের রাবিশ ব্যবহার করা হচ্ছে। এই কাজের মূল ঠিকাদার সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাবশালী দোসর ও ডিলার খোরশেদ। রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রশাসনিক যোগসাজশ খাটিয়ে তিনি দেদারসে এই অনিয়ম চালিয়ে যাচ্ছেন। একইভাবে উপজেলার রাজামেহার এলাকায় প্রায় ২২ কোটি টাকা বরাদ্দের একটি বড় রাস্তায় চলছে হরিলুট। এছাড়া ফতেহাবাদ ইউনিয়নের খলিলপুর থেকে সুলতানপুর পর্যন্ত সড়ক, সুবিল পূর্বপাড়া এলাকায় ৬২লাখ টাকা বরাদ্দের সড়ক এবং মোহনপুর এলাকার সড়কসহ উপজেলার প্রায় প্রতিটি চলমান প্রকল্পেই মানহীন সামগ্রী দিয়ে তড়িঘড়ি করে কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে।অভিযোগ উঠেছে, এই বিশাল লুটপাটকে বৈধতা দিতে দেবিদ্বার এলজিইডির সহকারী প্রকৌশলী নাজমুল প্রধান ভূমিকা পালন করছেন। সুনির্দিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, মাঠ পর্যায়ের নিম্নমানের রাবিশ ও কাদা মিশ্রিত সামগ্রীকে তিনি এক নম্বর ইটের সুরকি বলে কাগজে-কলমে প্রত্যয়নপত্র দিচ্ছেন। শুধু তাই নয়, রাস্তার কাজের গুণগত মান যাচাইয়ের জন্য যে ল্যাব টেস্টের (Lab Test) নিয়ম রয়েছে, সেখানেও চলছে চরম জালিয়াতি। কুমিল্লা জেলা প্রকৌশল কার্যালয় থেকে ল্যাব টেস্টের জন্য যারা আসেন, তাদেরকে মোটা অংকের ঘুষ দিয়ে ম্যানেজ করা হচ্ছে। ফলে মাঠের কাজ অত্যন্ত নিম্নমানের হলেও ঢাকা ও জেলা কার্যালয়ে শতভাগ পাস বা নির্ভুল রিপোর্ট পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে।স্থানীয় সূত্রগুলো আরও জানিয়েছে, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলেও দেবিদ্বারে সড়ক সিন্ডিকেটের কোনো পরিবর্তন হয়নি। উল্টো ঠিকাদার ও কতিপয় নেতাকর্মী বর্তমান সময়ের প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হাসনাত আবদুল্লাহর নাম ভাঙিয়ে এই লুটপাটকে আড়াল করার চেষ্টা করছে। হাসনাত আবদুল্লাহর নাম ব্যবহার করে স্থানীয় প্রশাসন ও তদারকি কর্মকর্তাদের মুখ বন্ধ রাখা হচ্ছে এবং তড়িঘড়ি করে বিল তুলে নেওয়া হচ্ছে।সচেতন মহলের অভিযোগ, এই প্রকাশ্য দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরে সম্প্রতি জাতীয় সাপ্তাহিক দেশ পত্র, ‘কুমিল্লার আলো’, ‘ডাক প্রতিদিন’ ও ‘জাতীয় দৈনিক বাংলার দূত’দৈনিক প্রতিদিনের খবর, সংবাদ টিভি সহ বেশ কয়েকটি অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সহ আঞ্চলিক সংবাদ মাধ্যমে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিটি সংবাদের কপি এবং মাঠ পর্যায়ের অনিয়মের তথ্য প্রমাণ দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অশোক বিক্রম চাকমাকে দেওয়া হলেও তিনি দেশের প্রচলিত আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী কোনো ব্যবস্থা নেননি। উপজেলার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে এই অনিয়ম বন্ধ ও সঠিক তদন্ত করার মূল আইনি দায়িত্ব ইউএনও’র হলেও ১০% নির্দিষ্ট কমিশনের লোভে তিনি সম্পূর্ণ নীরব রয়েছেন। এলাকাবাসীর দাবি, এই ত্রিমুখী যোগসাজশের কারণে রাস্তা নির্মাণের ৬ মাস পার না হতেই কার্পেটিং ও সুরকি উঠে সড়কগুলো চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়বে। এতে সরকারের শত কোটি টাকা সরাসরি জলে যাবে এবং জনগণের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।এই সিন্ডিকেট, ১০% কমিশন বাণিজ্য, ল্যাব টেস্ট জালিয়াতি ও প্রত্যয়নপত্র বাণিজ্যের বিষয়ে বক্তব্য জানতে দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অশোক বিক্রম চাকমা এবং সহকারী প্রকৌশলী নাজমুলের কার্যালয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।

মন্তব্য

সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর

Developed By: Dotsilicon