বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
 

‘জামাত-শিবির করার ক্রাইটেরিয়া হলো গালিগালাজের ট্রেনিং নিতে হবে’-ছাত্রদল সভাপতি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ জানুয়ারী ২০২৬

---

 

সুমন গাজী, বাকৃবি প্রতিনিধি:

‘জামাত-শিবির বা করতে হলে কিছু ক্রাইটেরিয়া আছে। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়বে এরপর গালিগালাজের ট্রেনিং নিবে। আপনি বোঝেন বা না বোঝেন ২টা গালি দিয়ে ঘুমাতে হবে। অথবা নামাজে যাওয়ার আগে ১০টি কমেন্টে গালি দিতে হবে। এছাড়া জামাত ইসলাম কিংবা ছাত্রশিবির করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন ছাত্রদল সভাপতি মো রাকিবুল ইসলাম রাকিব।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি ) বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) অনুষ্ঠিত ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এবং জাতীয় নির্বাচনে ধানের শীষের পক্ষে প্রচারণায় করণীয় নিয়ে একটি মতবিনিময় সভা প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব বলেন ছাত্রদল সভাপতি। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল বাকৃবি শাখার উদ্যোগে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। বিকেল সাড়ে চারটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ নজরুল ইসলাম সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

ছাত্রদলের সভাপতি মো. রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, ‘তথাকথিত ইসলামী দল গ্রাম পর্যায়ে ধর্মকে এমনভাবে ব্যবহার করছে। যেন ৫ আগস্টের আগে যে ইসলাম ছিল সব মনে হয় ভুল ছিলো। পরে এসে নতুন দল নতুনভাবে ইসলাম প্রতিষ্ঠার কাজে নেমেছে। নতুন ভাবে ইসলামী গণতন্ত্র কায়েম করবে। আমেরিকাও নাকি তাদেকে ক্ষমতায় দেখতে চায়।’

ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে অতিথির বক্তব্যে ছাত্রদলের সভাপতি বলেন, ‘তারেক রহমান শতাধিক সামাজিক কাজকে একটি কার্ডের আওতায় আনছেন। সেটিই ফ্যামিলি কার্ড। তারা প্রশ্ন করে তারেক সাহেবের পরিকল্পনা নিয়ে এবং বলে সব পরিকল্পনা তো বাজেটের সাথে সাংঘর্ষিক। কিন্তু তারা জানেই না দেশে একশত ত্রিশের অধিক সামাজিক কর্মসূচি রয়েছে। গত ১ বছর যাবৎ বিশ্লেষন করে তারেক রহমান এসব পরিকল্পনা সাজিয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বিএনপি ক্ষমতায় আসলে সেটার রূপরেখা দেশবাসী জানবে।’

শিবিরের সমালোচনা রাকিব বলেন, ‘শিবির নাকি গণতান্ত্রিক দল। কিন্তু দেখে থাকবেন তাদের সেক্রেটারি সবসময় সভাপতি হয়। এর ব্যত্যয় কখন দেখা যায়নি। তাহলে তারা কেমন গণতান্ত্রিক দল?।

জরিপ নিয়ে সমালোচনায় রাকিব বলেন, ‘জামাত-শিবির প্রতিদিন অনলাইন জরিপ চালাই। প্রতি আসনে তাদের করা জরিপে বিএনপির ভরাডুবি দেখায়। অনলাইনে ভোট হলে জামাত ৩০০ আসনে বিএনপিকে হারাবে। ইনশা’আল্লাহ ১২ তারিখের পর আমরা দেখবো তারা কোন কোন আসনে জয়ী হয়। সেদিন সবাই সবাই দেখতে পাবেন যারা কত বড় মোনাফেক। তাদের দলের ইসলাম নাম আর ব্যবহার করতে পারবে না। মানুষ ওদেরকে মোনাফেক হিসেবে ডাকবে।’

শেরপুরের সংঘর্ষের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘জামাত নেতা যিনি মারা গিয়েছে তার জন্য সমবেদনা জানাচ্ছি। কিন্তু এটি ছিল দুই পক্ষের সংঘর্ষ। প্রথম হামলা করলো জামাত। পুলিশ, স্থানীয় প্রশাসন, বিএনপির নেতৃবৃন্দ তাদেরকে অনুরোধ করার পরেও তাদের খামখেয়ালিতে এমন দূর্ঘটনা হয়েছে। প্রথমে মাঠ থেকে মেরে বিএনপিকে তাড়িয়ে দেয়। তখন তারা বীর বসে হাসাহাসি করছিলো।’

ডাকসু নেতাদের সমালোচনা করে ছাত্রদল সভাপতি বলেন, ‘শেরপুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ডাকসু নেতারা নিচু মানসিকতার পরিচয় দিয়েছে। যেকোনো একটা ঘটনা ঘটলে তারা রেডি হয়ে থাকে অপপ্রচারের জন্য। ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়েও তারা বিএনপি চেয়ারম্যানসহ সিনিয়র নেতৃবৃন্দের নামে অশ্লীল ও নোংরা স্লোগান দিয়েছে। যদি আমাদের শীর্ষ নেতার নামে এমন চলতে থাকে আমরা ছাত্রদল একক ভাবে সেটি প্রতিহত করবো। এতে যে প্রক্রিয়া অবলম্বন করতে হয় ছাত্রদল তা করবে। আপনাদের দায়িত্বহীন ও ক্যাম্পাসকে অস্থিতিশীল করার বক্তব্য পরিহার করতে হবে।’

সভায় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. আতিকুর রহমান সভাপতিত্বে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. ছাদেকা হক, উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. মোঃ হারুন অর রশিদ এবং ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক তরিকুল ইসলাম তুষারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী এসময় উপস্থিত ছিলেন। সভায় সঞ্চালনায় ছিলেন শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব কৃষিবিদ মো. শফিকুল ইসলামের।

মন্তব্য

সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর

Developed By: Dotsilicon