![]()
জাবি প্রতিনিধি
দিনাজপুর জেলার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীসমূহের ইতিহাস ও ঐতিহ্য নিয়ে গবেষণা করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. লুৎফুল এলাহী। গবেষণাটির বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. এ আর মল্লিক লেকচারার হলে আয়োজিত এক সেমিনারে গবেষণাপত্র উপস্থাপন করা হয়।
‘দিনাজপুর জেলার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীসমূহের ইতিহাস ও ঐতিহ্য’ শীর্ষক এ গবেষণা প্রকল্পটি সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধান ও অর্থায়নে পরিচালিত হয়েছে। গবেষণার বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ড. লুৎফুল এলাহী বলেন, দিনাজপুর অঞ্চলে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীগুলোর ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সামাজিক অবস্থান অনুসন্ধান করাই ছিল গবেষণাটির মূল লক্ষ্য।
তিনি বলেন, “সাঁওতাল, ওরাঁও, পাহান, তুরি, মুন্ডা, রাজবংশীসহ প্রায় ২১ থেকে ২২টি জনগোষ্ঠীর ইতিহাস, বাংলাদেশে তাদের আগমনের ধারাবাহিকতা এবং ব্রিটিশ আমল থেকে এ অঞ্চলে তাদের বসবাসের বিভিন্ন দিক এ গবেষণায় তুলে ধরার চেষ্টা করেছি।”
বর্তমান বাংলাদেশ রাষ্ট্রে এসব জনগোষ্ঠীর পরিচয় ও অবস্থানের বিষয়টিও গবেষণায় গুরুত্ব পেয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “তারা আমাদের দেশের নাগরিক এবং আমাদের জাতীয় পরিচয় ‘বাংলাদেশি’। আমরা যেমন বাংলাদেশি, বাংলার মুসলমানরা যেমন বাংলাদেশি, অন্যান্য ধর্ম ও বর্ণের মানুষ যেমন বাংলাদেশি—তেমনি এই ক্ষুদ্র জাতিসত্তার মানুষরাও বাংলাদেশি।”
‘আদিবাসী’ পরিচয় নিয়ে বিভিন্ন বিতর্ক ও ভিন্নমত রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পরিচয়গত বিতর্কের ঊর্ধ্বে উঠে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় কাঠামোর মধ্যে এসব জনগোষ্ঠীর সমান নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়টিই গবেষণায় গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশ জাতি, ধর্ম, বর্ণ ও সম্প্রদায়নির্বিশেষে সকল নাগরিকের সমান অধিকারের রাষ্ট্র। তাই এসব ক্ষুদ্র জাতিসত্তার আর্থসামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক অধিকার বৈষম্যহীনভাবে নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম কর্তব্য।” গবেষণায় এসব জনগোষ্ঠীর পশ্চাৎপদতার কারণ অনুসন্ধান, তাদের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতি টিকিয়ে রাখার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানান ড. লুৎফুল এলাহী।
তার ভাষ্য, পৃথক বা বিচ্ছিন্ন করে দেখার পরিবর্তে তাদের স্বতন্ত্র ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের অধিকার নিশ্চিত করে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় কাঠামোর মধ্যে সমান মর্যাদা, অধিকার ও সুযোগ প্রতিষ্ঠাই এ গবেষণার অন্যতম লক্ষ্য। সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাবির কলা ও মানবিকী অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. মোজাম্মেল হক বলেন, “আজ দিনাজপুর জেলার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী নিয়ে অধ্যাপক ড. লুৎফুল এলাহী একটি বিস্তারিত উপস্থাপনা দিয়েছেন। গবেষণাটিতে এসব জনগোষ্ঠীর জীবন, ইতিহাস, অর্থনীতি, সমাজ ও ধর্মসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।”
তিনি বলেন, গবেষণায় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীগুলোর আর্থসামাজিক অবস্থার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যাতে তাদের উন্নয়নে সরকার কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। এ বিষয়ে গবেষক বেশ কিছু প্রস্তাবনাও উপস্থাপন করেছেন। আশা প্রকাশ করে বলেন, গবেষণায় উত্থাপিত প্রস্তাবনাগুলোর প্রতি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সরকার গুরুত্ব দেবে।
এছাড়া সেমিনারে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. এ কে এম জসিম উদ্দীন, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব দীপংকর বিশ্বাসসহ বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।



মন্তব্য