![]()
মোঃ চাঁন পাশা, বিশেষ প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ড নিমতলার বাসিন্দা সখিনা বেগম নামে এক বিধবা নারীর কাছে তার আপন ছোট ভাই বাসার মিয়া নিজের দুই শতাংশ জায়গা মোট ১৩ লক্ষ টাকা বিক্রি করে নগদ তিন লক্ষ টাকা ষ্টেম্পের মাধ্যমে বায়না সূত্রে টাকা নেওয়ার পর দীর্ঘদিন ধরে দলিল বুঝিয়ে না দিয়ে তার আপন ছোট ভাই বাসার মিয়া ছখিনা বেগমের সাথে অনেক তালবাহানা করার অভিযোগ রয়েছে।
বিধবা সখিনা বেগম নিরুপায় হয়ে ২৬ আগস্ট বুধবার আনুমানিক বেলা ১১ ঘটিকার সময় তার নিজ বাড়ির প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের ডেকে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তার বিস্তারিত ঘটনা তুলে ধরেন, তিনি কান্না জড়িত কন্ঠে সংবাদ সম্মেলনে একটি লিখিত বক্তব্য গণমাধ্যম কর্মীদের সামনে পেশ করেন, উল্লেখ্য যে সখিনা বেগমের বাবার মৃত্যুর পর তার ছোট ভাই বাসারকে কোলে পিঠে বড় করে তুলেন। বাশারের থাকা-খাওয়া এবং স্কুল কলেজের সম্পূর্ণ খরচ সখিনা বেগম বহন করেন। বাসার কলেজ জীবন শেষ করে কোন চাকরি না পেয়ে বেকারত্ব জীবনযাপন করার মাধ্যমে তিনি হতাশ হয়ে পড়েন। পাশাপাশি বাসার মিয়া বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে টাকা ধার এনে অনেক ঋণ খেলাপি হয়ে পড়ে। এরপর পাওনাদার টাকার জন্য বাসারকে চাপ দিতে থাকিলে নিরুপায় হয়ে তার বড় বোন সখিনা বেগমের কাছে ২ শতাংশ জায়গা বিক্রি করার প্রস্তাব করিলে ছখিনা বেগম তাতে রাজি হয়ে যান, কিন্তু বাসারকে দলিল রেজিস্ট্রি করার চাপ দিলে বাসার অনেক তালবাহানা করতে থাকে এমনিভাবে পার হয়ে যায় দীর্ঘ সময়। কিছুদিন পূর্বে বাসার তার বড় ভাই স্বপন মিয়া ও স্ত্রীর যুগসাজেশে গোপনে নবীনগর পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা সবুর মিয়ার কাছে ২ শতাংশ জায়গা বিক্রি করে সবুর মিয়ার নামে ২৯ মার্চ পাউয়ার দলিল দিয়ে দেন। এবং বাসার কাউকে কিছু না বলে ২২জুন মালদীপ চলে যায়। এই কথা ছখিনা বেগম শোনার পর দিশেহারা হয়ে পড়ে। তাৎক্ষণিকভাবে বিভিন্ন জায়গায় ছুটাছুটি করে খোঁজ খবর নিয়ে ঘটনার সত্যতা পেয়ে দ্রুত বাসার মিয়া ও তার স্ত্রীর সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও কোন সদ উত্তর পাওয়া যায়নি। তিনি বিষয়টি মৌখিকভাবে নবীনগর থানায় অবগত করেন এবং তার ভাই বাসার মিয়া ও স্ত্রীর নামে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজ্ঞ আদালতে ন্যায় বিচারের দাবিতে একটি মামলা দায়ের করেন। এদিকে গণমাধ্যম কর্মীরা বিস্তারিত জানতে বাসার মিয়া প্রবাসে থাকাই তার স্ত্রীর সাথেও কোনরকম যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
বিধবা সখিনা বেগম তার প্রকৃত জায়গার দলিল ফেরত পেতে স্থানীয় এমপি মোঃ আব্দুল মান্নান সহ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারক রহমানের হস্তক্ষেপ চাচ্ছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রতিবেশী কয়েকজন বলেন বিধবা ছখিনা বেগম অনেক ভালো মানুষ, দুই ছেলে এক মেয়ে নিয়ে তার সংসার খুব সুখে শান্তিতে চলতেছে কিন্তু তার ভাই ও ভাবীরা মিলে ছখিনা বেগমের প্রতি অনেক অবিচার করছে। প্রতিবেশীরা আরো বলেন দ্রুত এর একটা সুষ্ঠু ও সুন্দর সমাধান হওয়া উচিত।



মন্তব্য