![]()
রেজাউল করিম মজুমদার, গাজীপুর
গাজীপুর মহানগরের বাসন থানাধীন ভোগড়া বাইপাস এলাকায় বর্ষা সিনেমা হল সংলগ্ন একটি নামহীন আবাসিক হোটেলে দীর্ঘদিন ধরে বাণিজ্যিক মার্কেটের আড়ালে অসামাজিক ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে, এই অবৈধ কার্যকলাপে এলাকার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে এবং যুবসমাজ ধ্বংসের মুখে পড়ছে। নীয়দের দাবি, বাইরে থেকে ভবনটিকে সাধারণ একটি বাণিজ্যিক মার্কেট মনে হলেও ভেতরে নামহীন আবাসিক হোটেল তৈরি করে রমরমা অসামাজিক ব্যবসা চলছে।
বহিরাগত নারী-পুরুষের আনাগোনা বেড়ে যাওয়ায় এলাকার সাধারণ মানুষ চরম অস্বস্তি ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয়রা জানান, হোটেলটির কোনো দৃশ্যমান সাইনবোর্ড বা বৈধ কাগজপত্র নেই।
নামহীন এই হোটেলের মালিক ও ম্যানেজার প্রভাবশালী মহলের যোগসাজশে পর্দাটানের আড়ালে অনৈতিক বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন। অনুসন্ধানে জানা যায়, ভবনটির মালিকানা ও পরিচালনায় একাধিকবার পরিবর্তন এসেছে। বর্তমানে ম্যানেজার ফারুকের নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট এটি পরিচালনা করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, প্রভাবশালী মহল ও কিছু অসাধু ব্যক্তির যোগসাজশেই দীর্ঘদিন ধরে এ অপতৎপরতা চলছে।
পরিচয় গোপন রাখার শর্তে হোটেলের এক কর্মচারী জানান, ভবনের দ্বিতীয় তলা থেকে নিচে নামার জন্য একটি গোপন সিঁড়ি ও বিকল্প দরজা রয়েছে। পুলিশি অভিযান শুরু হলে ওই পথ দিয়ে সংশ্লিষ্টরা দ্রুত পালিয়ে যায়। এমনকি জরুরি মুহূর্তে জানালার গ্রিল কেটে বের হওয়ার পথও তৈরি রাখা হয়েছে।এ বিষয়ে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন ও বাসন থানা অবগত রয়েছে। এর আগেও গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকার অবৈধ আবাসিক হোটেলে পুলিশ অভিযান পরিচালনা করেছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত ম্যানেজার ফারুকের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) বাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হারুন অর রশীদ জানান, বিষয়টি পুলিশের নজরদারিতে রয়েছে। এর আগেও ওই হোটেলে একাধিকবার অভিযান চালিয়ে মানবপাচার আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।হোটেলটি এখনো চালু থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি বলেন, হয়তো তারা গোপনে বা চুরি করে চালাচ্ছে। পুলিশ তো সবসময় সেখানে বসে থাকতে পারে না। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখে খুব দ্রুত আবারও অভিযান পরিচালনা করা হবে।
এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত এই নামহীন হোটেলটিতে অভিযান চালিয়ে এর মালিক ও ম্যানেজারকে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।



মন্তব্য