![]()
মোঃ চাঁন পাশা, বিশেষ প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর পশ্চিম ইউনিয়নের চরলাপাং গ্রামে গভীর রাতে একাধিক বাড়িতে পিস্তল ও দেশীয় অস্ত্র ঠেকিয়ে বাড়ির মালিকদের জিম্মি করে নগদ অর্থ,স্বর্ণালংকার ও মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যায় একদল ডাকাত।
২৩ আগস্ট রবিবার আনুমানিক রাত ১টার পর ঘুমন্ত অবস্থায় চরলাপাং গ্রামের ৮/১০টি বাড়িতে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ জন লোক স্পিডবোট যোগে এসে পিস্তল ও দেশীয় অস্ত্র হাতে নিয়ে হানা দেয়, অভিযুক্ত বাড়ির মালিকগণ কিছু বুঝে ওঠার আগেই তাদের সকলকে অস্ত্র ঠেকিয়ে জিম্মি করে নগদ অর্থ স্বর্ণালংকার ও মোবাইল ফোন নিয়ে যায়।
হামলার শিকার বাড়ির মালিকগণ বলেন তারা প্রতিদিনের মতো নিজেদের কাজকর্ম শেষ করে ও রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লে হঠাৎ করে বাড়ির আশপাশে বিকট শব্দ শুনে ঘুম থেকে জেগে ওঠে দরজা খোলার সাথে সাথেই তাদেরকে অস্ত্র ঠেকিয়ে জিম্মি করে ফেলেন, ওই সময় ডাকাত দলেরা তাদেরকে প্রাণ নাশের হুমকি দেন এবং তাদের ঘরে কোথায় কি আছে সবগুলো দ্রুত বের করতে বলেন, তারা নিজেদের প্রাণের ভয়ে চুপচাপ থাকেন, কিছুক্ষণের ভিতরেই ঘরে থাকা কাঠের ও স্টিলের আলমারির লকার ভেঙ্গে সবকিছু এলোমেলো করে সকল স্বর্ণালংকার নগদ অর্থ ও মোবাইল ফোন ডাকাত দলের আওতায় নিয়ে যান। একইসাথে প্রত্যেকটি বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাত দল হামলা দিয়ে আনুমানিক প্রায় ১৫ থেকে ২০ লক্ষ টাকার মালামাল নিয়ে যায়।
ডাকাত দলের কাউকে চিনতে পারছেন কিনা জানতে চাইলে তারা বলেন প্রত্যেকের মুখে মাস্ক এবং কাপড় বাধা থাকায় সরাসরি কাউকে চিনতে পারিনি তবে আমরা ধারণা করছি পাশের জেলার নরসিংদীর রায়পুরা থানার মির্জাচর গ্রামের ডাকাত দল হতে পারে।
যাদের বাড়িতে ডাকাতি হয়েছে তারা হলেন তন্জব আলীর ছেলে হুসেন মিয়া ও সিদ্দিকুর রহমান, বজলু মিয়ার ছেলে নছর মিয়া, দানেছ মিয়ার ছেলে খায়ের মিয়া, আলী আজগর মিয়ার ছেলে আবুল কাশেম, মাত্বর আলীর ছেলে উজ্জল মিয়া সহ আরো অনেকের।
ডাকাতির ঘটনা স্থানীয়দের কাছে জানতে চাইলে তারা বলেন দীর্ঘদিন যাবত পাশের জেলা নরসিংদীর রায়পুরা থানার মির্জাচর গ্রামের লোকজনের সাথে চরলাপাং গ্রামের বিরোধ চলে আসছে, তাই পূর্ব বিরোধের জেরে রাতের অন্ধকারে এই ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করছি।
এ ঘটনায় চরলাপাং গ্রামে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং তারা তাদের পরিবার নিয়ে বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নবীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোরশেদুল আলম চৌধুরী যুগের কন্ঠস্বরকে বলেন গতরাতে স্থানীয় এক ব্যক্তির ফোনে জানতে পেরেছি দুই পক্ষের মারামারির ঘটনাকে কেন্দ্র করে কয়েকটি বাড়িতে লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে, ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত হয়ে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এবং তিনি আরো বলেন এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় এসে অভিযোগ দায়ের করেনি, অভিযোগ হাতে পেলে পুলিশের পক্ষ থেকে সঠিক তদন্তের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



মন্তব্য