![]()
পাথরঘাটা (বরগুনা) প্রতিনিধি:
বরগুনার পাথরঘাটায় পৈতৃক ওয়ারিশি সম্পত্তি জবরদখল, বিরোধীয় জমিতে রাস্তা ও স্থাপনা নির্মাণ এবং চলমান সালিশি কার্যক্রম উপেক্ষা করার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছেন মো. হাসান হাওলাদার। তিনি বিরোধীয় জমিতে সব ধরনের নির্মাণকাজ বন্ধসহ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। ২৪ আগাস্ট ২৬ রোজ
সোমবার পাথরঘাটা মডেল প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ করেন মো. হাসান হাওলাদার। তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে ওই জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন থাকার পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে সালিশি কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।
লিখিত বক্তব্যে হাসান হাওলাদার বলেন, পাথরঘাটা উপজেলার ৮ নম্বর কালিপুর মৌজার এসএ ৩৮৩/৫৭৫ নম্বর খতিয়ানের দাগভুক্ত সম্পত্তি তার বাবা মৃত বছের উদ্দিনের নামে রেকর্ডভুক্ত। বাবার মৃত্যুর পর তিনি ও তার দুই বোন উত্তরাধিকারসূত্রে ওই সম্পত্তির মালিক হন।
তার অভিযোগ, একই এলাকার আনোয়ার সিকদার, দেলোয়ার হোসেন, আল-আমিন, নুর নবী জিয়াসহ কয়েকজন ওই সম্পত্তিতে প্রভাব বিস্তার করে রাস্তা, পাকা স্থাপনা ও স-মিলসহ বিভিন্ন স্থাপনা ও কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। সম্পত্তির দখল ছেড়ে দিয়ে তাদের ন্যায্য অংশ বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য একাধিকবার অনুরোধ করা হলেও প্রতিপক্ষরা তা আমলে নেননি বলে দাবি করেন তিনি।
হাসান আরও অভিযোগ করেন, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ২০২২ সালে পাথরঘাটার সহকারী জজ আদালতে দেওয়ানি ২১৬/২০২২ নম্বর মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন। এর মধ্যেই বিরোধীয় জমিতে নির্মাণকাজের চেষ্টা করা হলে চলতি বছরের ২৫ মে পাথরঘাটা থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়।
পরে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয়। গত ২৬ জুন উভয় পক্ষের সালিশ মনোনয়ন ও অচলনামা সম্পাদনের পর জমি পরিমাপ করা হয়। এতে তিনি তার ন্যায্য অংশ সম্পর্কে জানতে পারেন বলে সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করেন। তবে প্রতিপক্ষরা পরবর্তী সালিশি কার্যক্রমে সহযোগিতা করেননি বলে অভিযোগ তার।
তিনি আরও বলেন, পরবর্তীতে থানার এসআই মো. মোস্তফার দায়িত্বে উভয় পক্ষ পুনরায় অচলনামা দিলেও প্রতিপক্ষরা সালিশ বৈঠকে উপস্থিত না হয়ে বিষয়টি আরও জটিল করে তুলছেন।
সংবাদ সম্মেলনে হাসান হাওলাদার অভিযোগ করেন, গত ২৩ আগস্ট সকাল ১১টার দিকে সালিশি কার্যক্রম চলমান থাকা অবস্থায় প্রতিপক্ষরা অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জন নারী-পুরুষকে সঙ্গে নিয়ে বিরোধীয় জমিতে প্রবেশ করেন এবং সেখানে পাকা রাস্তা নির্মাণের কাজ শুরু করেন।
বিষয়টি সালিশদের জানানো হলে সালিশ সদস্য আবদুল আউয়াল নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। পরে আবদুল আউয়াল, কামরুল গাজীসহ অন্যান্য সালিশ সদস্য ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ বন্ধ রাখার অনুরোধ করলেও প্রতিপক্ষরা তা উপেক্ষা করেন বলে অভিযোগ করেন হাসান।
এ ছাড়া সালিশ সদস্য আবদুল আউয়ালকে নিয়ে প্রতিপক্ষ বিভিন্ন মাধ্যমে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য প্রচার করে সালিশি কার্যক্রম বানচালের চেষ্টা করছেন বলেও সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়।
হাসান হাওলাদার বলেন, বিরোধীয় সম্পত্তি নিয়ে আদালতে মামলা বিচারাধীন এবং স্থানীয়ভাবে সালিশি কার্যক্রমও চলমান। এমন পরিস্থিতিতে ওই জমিতে নতুন করে রাস্তা বা স্থাপনা নির্মাণ করা হলে বিরোধ আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে।
তিনি প্রশাসনের কাছে বিরোধীয় জমিতে সব ধরনের নির্মাণকাজ বন্ধ, পৈতৃক সম্পত্তিতে উত্তরাধিকারীদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত এবং অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।



মন্তব্য