![]()
মোঃ শাকিল মোল্লা,রাজবাড়ী প্রতিনিধি:
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে চায়ের দোকানদার ফারুক শেখ (৪৮) হত্যাকাণ্ডের ১২ ঘন্টার মধ্যে রহস্য উদঘাটন ও ঘাতক তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। জবাই করে এবং দুই হাত বিচ্ছিন্ন করে নির্মম এ হত্যার সাথে জড়িত ফারুকেরই আপন ছোটভাই বারেক শেখ (৪৪)।
তার পরিকল্পনাতে তারই কর্মচারী উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের হোসেন মন্ডল পাড়ার ওয়াজেদ সরদারের ছেলে মো. আলমগীর হোসেন ওরফে আলম (২৬) এবং একই গ্রামের বাবু শেখের ছেলে মো. রুবেল শেখ (৩০) ধারালো ছোল/ দা দিয়ে এ হত্যাকান্ড ঘটায়।
পুলিশ ঘাতকদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত দুইটি রক্তাক্ত ধারালো দা এবং হত্যাকান্ডের সময় আলমগীর ও রুবেলের পরিহিত রক্তাক্ত জিন্স ও টি শার্ট উদ্ধার করেছে।
হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত দুইটি ছোল বারেক নিজেই টাকা খরচ করে বিশেষভাবে তৈরি করেছিল। হত্যাকান্ডের জন্য প্রাথমিকভাবে সে আলমগীর ও রুবেলকে নগদ ১৭’শ টাকাও প্রদান করেছিল। এছাড়া সে ঘাতক দ্বয়কে নিরাপদে ফারুকের শয়ন কক্ষে প্রবেশ এবং হত্যা শেষে নিরাপদে বের হয়ে যাওয়ার জন্য নিজে বাড়ির বাইরে দাড়িয়ে পাহারাদারের ভুমিকা পালন করে।
পারিবারিক সম্পত্তি, ফারুকের বহু নারীতে আসক্তি, ৬টি বিয়ে করলেও একটাকেও ধরে রাখতে না পারা, সংসার বিরাগী, জীবদ্দশায় মায়ের সাথে অসদাচরণ, সমাজ বিবর্জিত কাজকর্মে লিপ্ত থাকার কারনে অনেক আগেই বারেক শেখ তার ভাইকে হত্যার পরিকল্পনা করে।২৩ আগষ্ট রবিবার বিকাল ৫ টায় রাজবাড়ী পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ঘাতকদের উদ্ধৃতি দিয়ে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদ উপরোক্ত তথ্যগুলো প্রকাশ করেন।
সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) তাপস কুমার পাল,অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল)শাহিদুল ইসলাম, গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম সহ অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্হিত ছিলেন।
সম্মেলনে জানানো হয়, ২২ আগস্ট শনিবার দুপুরে গোয়ালন্দ পৌরসভার জামতলা এলাকার নিজ বাড়ির শয়নকক্ষে ধারালো অস্ত্রের দ্বারা ফারুক শেখকে হত্যা করা হয়। খবর পেয়ে গোয়ালন্দঘাট থানার পুলিশ ও সিআইডির ক্রাইমসিন টিম ঘটনাস্থল পৌছে বিভিন্ন বস্তুগত ও জৈবিক আলামত সংগ্রহ করে। মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়।
এরপর হত্যার রহস্য উদঘাটন ও জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে রাজবাড়ীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) শাহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও গোয়ালন্দঘাট থানা পুলিশের সমন্বয়ে একাধিক দল মাঠে নামে। ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে রাতেই তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সম্মেলনে জানানো হয়, পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে নিহতের ছোট ভাই বারেক শেখ হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেন। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ এবং ফারুক শেখের পারিবারিক ও ব্যক্তিগত জীবনযাপন নিয়ে ক্ষোভ থেকে বারেক তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। এ কাজে তিনি তাদের চায়ের দোকানের কর্মচারী রুবেল শেখ ও আলমকে সম্পৃক্ত করেন।হত্যাকান্ডের জন্য তারা ২১ আগস্ট শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে দৌলতদিয়া রেলস্টেশনে বসে চূড়ান্ত পরিকল্পনা করে। এ সময় সাময়িক খরচের জন্য রুবেল ও আলমকে বারেক নগদ ১ হাজার ৭০০ টাকাও প্রদান করে।
পরদিন ২২ আগস্ট দুপুর সাড়ে ১২টার পর রুবেল ও আলম বারেকদের বাড়িতে যায়। সেখানে আগে থেকে রাখা দুটি ধারালো দা তাদেরকে দেয় বারেক। এরপর বারেক বাড়ির বাইরে চলে যান। পুলিশের দাবি, এ সময় রুবেল ও আলম নিজ শয়নকক্ষে ঘুমিয়ে থাকা ফারুক শেখকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেন। পরে ব্যবহৃত দুটি ধারালো অস্ত্র বাড়ির টয়লেটের পাশে ময়লার স্তূপের আড়ালে রেখে তারা সেখান থেকে পালিয়ে যান।
এদিকে গ্রেফতারের পর পুলিশ রুবেল ও আলমকে ঘটনাস্থলে নিয়ে গেলে তারা ময়লার স্তূপের আড়াল থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দুটি ধারালো রক্তাক্ত দা বের করে দেন। এছাড়া তাদের ভাষ্য অনুযায়ী তাদের নিজ নিজ বাড়ি থেকে রক্তের শুকনো দাগযুক্ত জিন্সের প্যান্ট ও টি-শার্ট উদ্ধার করা হয়।
সন্ধ্যা সোয়া ৬ টায় এ রিপোর্ট লেখার সময় মুঠোফোনে গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তার তিন আসামী আদালতে স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তাদেরকে আদালতে নেয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।



মন্তব্য