![]()
বিশেষ প্রতিনিধি
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় বিগত আওয়ামী স্বৈরাচারী সরকারের দোসর যুবলীগ নেতা সুলতান আহমেদ ও মো. আলীর বিরুদ্ধে এলাকায় এখনো ত্রাসের রাজত্ব কায়েম এবং বর্তমান বিএনপি সরকারবিরোধী গোপন ষড়যন্ত্রের তীব্র অভিযোগ উঠেছে। ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের দুই বছর পেরিয়ে গেলেও এলাকায় এই চক্রটির অপতৎপরতা ও ক্ষতিকর প্রভাব কমেনি, যা নিয়ে স্থানীয় জনমনে চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী ও স্থানীয় তৃণমূল নেতাকর্মীরা এই বিষয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপির) ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর জরুরি হস্তক্ষেপ ও দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। বিএনপির রাজনীতি বন্ধের চক্রান্ত ও স্মারকলিপি:স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে এই যুবলীগ নেতারা এলাকায় ব্যাপক আধিপত্য বিস্তার করেছিলেন। তৎকালীন সময়ে তারা বিএনপির রাজনীতি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ও বন্ধ করার দাবি জানিয়ে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর একটি বিতর্কিত ও ধৃষ্টতাপূর্ণ স্মারকলিপি প্রদান করেছিলেন। সেই সময়ে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের ওপর নানা নির্যাতন ও মিথ্যা মামলার পেছনেও এই চক্রটির হাত ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। পেশা ও ব্যবসার আড়ালে বহাল তবিয়তে অভিযুক্তরা:স্বৈরাচারী সরকার পতনের পরও এই দুই নেতার প্রকাশ্য বিচরণ ও আধিপত্য নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে। বর্তমানে তারা বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যবসায়িক পরিচয়ের আড়ালে নিজেদের অবৈধ প্রভাব টিকিয়ে রেখেছেন। সুলতান আহমেদ: ব্রাহ্মণপাড়া সদরে অবস্থিত ‘কমফোর্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান, নিয়মিত ব্যবসা পরিচালনা করছেন এবং এই আয়ের উৎস ব্যবহার করে এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন।
মো. আলী: গোপালনগর দাখিল মাদ্রাসায় সহকারী শিক্ষক পদে বহাল তবিয়তে কর্মরত রয়েছেন এবং শিক্ষকতার আড়ালে দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছেন।বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে গোপন বৈঠক ও মিছিলের অভিযোগ:অভিযোগ রয়েছে, এই চক্রটি বর্তমান বিএনপি সরকারকে কোণঠাসা করতে এবং পূর্বের ফ্যাসিস্ট শক্তিকে পুনর্বাসিত করার লক্ষ্যে কুমিল্লা জেলার বিভিন্ন স্থানে গোপনে ও প্রকাশ্যে মিটিং-মিছিলের আয়োজন করছে। তারা বর্তমান প্রশাসনের বিরুদ্ধে নানামুখী উস্কানিমূলক তৎপরতা চালিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের হস্তক্ষেপ কামনা:স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও তৃণমূল বিএনপি নেতাকর্মীদের অভিযোগ, ফ্যাসিবাদের এই দোসররা এখনো আইনের আওতার বাইরে থাকায় এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে। তারা অবিলম্বে এই স্বৈরাচারের দোসরদের গ্রেপ্তার ও কমফোর্ট ডায়াগনস্টিক হাসপাতালসহ তাদের বিভিন্ন আস্তানায় প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন। একই সাথে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী যেন এই বিষয়ে আইনি ও রাজনৈতিক পদক্ষেপ নিতে স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশনা দেন, সেই দাবী জানিয়েছেন তৃণমূলের সর্বস্তরের কর্মীরা।



মন্তব্য