![]()
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলায় অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসনে তৃতীয় দফায় প্রধানমন্ত্রীর মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ ও চাল বিতরণ করা হয়েছে। বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার সুরমা ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক পরিবারের মাঝে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সহায়তা তুলে দেওয়া হয়।
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, চলমান প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রথম দফার সফল বাস্তবায়নের পর তৃতীয় দফায় প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে নগদ ৩ হাজার টাকা এবং ১৫ কেজি করে চাল প্রদান করা হয়। স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ক্ষতিগ্রস্তদের দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই সহায়তার অংশ হিসেবে মোট তিন মাসব্যাপী এই বিশেষ সরকারি সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে। জানা যায়, সম্প্রতি স্থানীয় সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলন জাতীয় সংসদে হাওরাঞ্চলের সামগ্রিক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। এর প্রেক্ষিতেই জরুরি ভিত্তিতে এই বিশেষ মানবিক বরাদ্দ অনুমোদন করা হয়।
সুরমা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সহায়তা বিতরণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অরুপ রতন সিংহ। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আশাফুল আলম, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা লুৎফুর রহমান এবং উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. শওকত আলী।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও অরুপ রতন সিংহ বলেন, “বর্তমান জনবান্ধব সরকার সবসময় দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় মানুষের পাশে রয়েছে। প্রথম দফার, দ্বিতীয় দফার পর আজ তৃতীয় দফায় এই সহায়তা প্রদান করা হলো।প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা সুনির্দিষ্টভাবে যাচাই-বাছাই করে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে এই বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে।” তিনি আরও জানান, পুরো উপজেলায় মোট ১ হাজার ৪০ জন কৃষককে এই মানবিক সুবিধার আওতায় আনা হয়েছে।
দুর্যোগের এই কঠিন সময়ে সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত সহায়তা হাতে পেয়ে সাধারণ কৃষকদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তারা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, স্থানীয় সংসদ সদস্য ও উপজেলা প্রশাসনের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। উল্লেখ্য, এই কর্মসূচির আওতায় সুরমা ইউনিয়নের মোট ১৪৩ জন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের মাঝে সফলভাবে মানবিক সহায়তা বিতরণ সম্পন্ন করা হয়।



মন্তব্য