![]()
মফিজুল ইসলাম, গোপালপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি
টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার হেমনগর ইউনিয়নে আবারও ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে যমুনা নদীর ভাঙন। নলিন নইমুদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের ঠিক বিপরীত পাশে নদীর তীরজুড়ে দেখা দিয়েছে ভাঙনের তীব্রতা। এতে স্থানীয় মানুষের মধ্যে দেখা দিয়েছে চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগ।
ভাঙনকবলিত এলাকার পাশ দিয়েই বয়ে গেছে গুরুত্বপূর্ণ ঢাকা–তারাকান্দি আঞ্চলিক মহাসড়ক। এই সড়কটি টাঙ্গাইলের সঙ্গে জামালপুরসহ উত্তরাঞ্চলের মানুষের ঢাকার যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে হাজার হাজার মানুষ ও বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করে। নদীভাঙন আরও তীব্র হলে গুরুত্বপূর্ণ এই আঞ্চলিক মহাসড়কটি বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
এর আগে গত ১৫ জুলাই যমুনা নদীর সুইচ গেট এলাকায় ভাঙন শুরু হলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে ভাঙন প্রতিরোধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল। এতে ওই এলাকায় সাময়িকভাবে ভাঙনের তীব্রতা নিয়ন্ত্রণে আসে। কিন্তু বর্তমানে নতুন করে নলিন নইমুদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের বিপরীত পাশে ভাঙন দেখা দেওয়ায় পরিস্থিতি আবারও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, এখনই কার্যকর ও স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে ভাঙন ধীরে ধীরে মহাসড়কের দিকে এগিয়ে আসতে পারে। এতে শুধু স্থানীয় বসতভিটা ও ফসলি জমিই নয়, বৃহৎ অঞ্চলের মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থাও মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ অবস্থায় যমুনার ভাঙন প্রতিরোধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
একই সঙ্গে গোপালপুর–ভুয়াপুর আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টু মহোদয়ের জরুরি নজর ও হস্তক্ষেপ কামনা করছেন এলাকাবাসী। তাঁদের প্রত্যাশা, এমপি মহোদয়ের উদ্যোগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত ভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং ঢাকা–তারাকান্দি আঞ্চলিক মহাসড়কসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো রক্ষা করা সম্ভব হবে।
যমুনার ভাঙন থামাতে এখনই কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন—দেরি হলে ক্ষতির পরিমাণ আরও ভয়াবহ হতে পারে।



মন্তব্য