শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬
 

‎নারায়ণগঞ্জের অনেক পোশাকশিল্প কারখানায় উৎপাদন বন্ধ, গ্যাস সংকটে।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০২৬

 ---

‎ মোঃ ইমরান হোসেন তালহা, পটুয়াখালী‎
‎গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় নারায়ণগঞ্জের শিল্পাঞ্চলে তৈরি হয়েছে তীব্র উৎপাদন সংকট। পর্যাপ্ত গ্যাস না থাকায় ডাইং কারখানাগুলোতে কাপড় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। আর ডাইং থেকে সময়মতো কাপড় না পাওয়ায় এর প্রভাব পড়ছে গার্মেন্টস কারখানা গুলোতে।

‎’শিল্প মালিকদের দাবি, কোথাও গ্যাসের চাপ শূন্যে নেমে যাচ্ছে, আবার কোথাও কয়েক ঘণ্টা সরবরাহের পর বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এতে কোনো কোনো কারখানায় উৎপাদন ধীর হয়ে গেছে, আবার অনেক কারখানায় শ্রমিকদের ছুটি দেওয়া হয়েছে।

‎বাংলাদেশ নিট ডাইং ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের এক নেতার দাবি, গ্যাসের চাপ শূন্যে নেমে যাওয়ায় নারায়ণগঞ্জের ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কারখানার উৎপাদন বন্ধ রেখে শ্রমিকদের ছুটিতে রাখা হয়েছে।

‎বাংলাদেশ নিট ডাইং ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি নাসির উদ্দিন বলেন, “ডাইংয়ের কাজ একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। একটি কাপড় মেশিনে ওঠার পর বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে প্রায় ১১ থেকে ১২ ঘণ্টা পর ফলাফল পাওয়া যায়। মাঝপথে আধা ঘণ্টার জন্যও গ্যাস বন্ধ হলে পুরো কাপড় নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে।”

‎তিনি বলেন, গত দুই দিন ধরে বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের চাপ একেবারে শূন্যে নেমে যাওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। এতে ডাইং ইউনিটগুলো মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে।

‎নাসির উদ্দিনের তথ্য অনুযায়ী, নারায়ণগঞ্জে ৩০০টির বেশি ডাইং কারখানা রয়েছে। সবগুলো একসঙ্গে বন্ধ না থাকলেও গ্যাসের চাপ কম থাকায় স্বাভাবিক উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। কোথাও কয়েক ঘণ্টা গ্যাস পাওয়া গেলে উৎপাদন চলছে, আবার সরবরাহ বন্ধ হলেই তা থেমে যাচ্ছে। অনেক কারখানায় শ্রমিকদের ছুটি দেওয়া হয়েছে এবং ওভারটাইম কমানো বা বন্ধ করা হয়েছে।

‎বিকল্প হিসেবে তেলের বয়লার ব্যবহার করা হলেও এতে উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায় বলে জানান তিনি। তাঁর হিসাবে, গ্যাসে যেখানে ১০ টাকা খরচ হয়, তেলের বয়লারে সেখানে প্রায় ৩০ টাকা খরচ হতে পারে। জেনারেটর চালালে ব্যয় বেড়ে যায় তিন থেকে চার গুণ।

‎তবে গ্যাস সংকটের কারণে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে শ্রমিক ছাঁটাইয়ের কোনো তথ্য তাঁদের কাছে আসেনি বলে জানান নাসির উদ্দিন।

‎“সংকটটা দুই দিন, তিন দিন নাকি ১০ দিন চলবে, আমরা জানি না। সরকারিভাবে নির্দিষ্ট কোনো গাইডলাইনও পাচ্ছি না,” বলেন তিনি।

‎বিকেএমইএর সহসভাপতি মোর্শেদ সারোয়ার সোহেল বলেন, নারায়ণগঞ্জে প্রায় এক হাজার গার্মেন্টস কারখানা রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৫০০টি ফতুল্লা বিসিক এলাকায় এবং আরও প্রায় ৪৫০টি ডাইংসহ বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। অধিকাংশ কারখানাই গ্যাসনির্ভর।

‎“গ্যাস না থাকায় ডাইং কারখানাগুলো বন্ধ থাকছে। এর প্রভাব পড়ছে গার্মেন্টসসহ পুরো শিল্পখাতে। গ্যাসের চাপ শূন্যে নেমে যাওয়ায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কারখানা ছুটিতে রাখা হয়েছে। অনেক কারখানায় কাজ বন্ধ রয়েছে,” বলেন তিনি।

‎মোর্শেদ সারোয়ার সোহেল আরও বলেন, গত দুই বছরে বিভিন্ন সংকটে নারায়ণগঞ্জে ছোট-বড় মিলিয়ে ১২২টি কারখানা বন্ধ হয়েছে। এসবের মধ্যে নিটিং, এমব্রয়ডারি, প্রিন্টিং, গার্মেন্টস ও ডাইং কারখানাও রয়েছে।

‎তাঁর মতে, গ্যাস সংকট নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ করা হলেও জাতীয় পর্যায়ের সংকট হওয়ায় পরিস্থিতি কঠিন হয়ে উঠেছে।

‎তবে গ্যাস সংকটের কারণে নারায়ণগঞ্জে কোনো কারখানা বন্ধ হয়েছে—এমন তথ্য পুলিশের কাছে নেই বলে জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ পুলিশ-৪-এর পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল মাহমুদ।

‎তিনি বলেন, “কিছু কারখানায় উৎপাদন ধীর হয়েছে। গ্যাস সংকটের কারণে কারখানা বন্ধ বা শ্রমিক ছাঁটাইয়ের বিষয়ে পুলিশের কাছে কোনো তথ্য নেই।”

‎পুলিশের কাছে থাকা তথ্য অনুযায়ী, গ্যাস সংকটে নারায়ণগঞ্জের ২২টি কারখানায় উৎপাদন কিছুটা ধীর হয়েছে। তবে কোনো কারখানা বন্ধ থাকার তথ্য পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।

‎ব্যবসায়ীরা বলছেন, গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে ডাইং থেকে শুরু করে গার্মেন্টস পর্যন্ত পুরো উৎপাদনব্যবস্থায় সংকট আরও বাড়তে পারে। বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করে উৎপাদন চালু রাখার চেষ্টা করা হলেও এতে ব্যয় কয়েক গুণ বেড়ে যাচ্ছে। ফলে উৎপাদন কমার পাশাপাশি লোকসানের আশঙ্কাও বাড়ছে।

‎গ্যাস সরবরাহ কবে স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য না থাকায় অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন নারায়ণগঞ্জের শিল্পমালিকেরা।

মন্তব্য

সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর

Developed By: Dotsilicon