![]()
ইমরান হোসেন তালহা, পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধি
টুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার বড়বাইশদিয়া ইউনিয়নের কাটাখালী গ্রামের গুরুত্বপূর্ণ খালটি কচুরিপানা, আগাছা ও নাম-না-জানা অসংখ্য জলজ উদ্ভিদের দখলে প্রায় অস্তিত্ব হারানোর পথে। একসময় চার গ্রামের মানুষের নৌ-যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা খালটি এখন নৌকা-ট্রলার চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ফলে বর্ষা মৌসুমে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। খালটি পুনরুদ্ধার এবং পশ্চিম কাটাখালী বেড়িবাঁধে দ্রুত একটি স্লুইস গেট নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০১৯ সালে প্রায় ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ কাটাখালী খালটি খনন করা হলেও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বর্তমানে পুরো খাল জলজ আগাছায় ঢেকে গেছে। অনেক স্থানে খালের অস্তিত্বই খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
বর্ষা এলেই এলাকার কাঁচা সড়কগুলো কাদায় চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে। এখন নৌপথ বিপদে আপদে চার গ্রামের মানুষের একমাত্র ভরসা। কিন্তু খালটি আগাছায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নিত্যপ্রোয়োজনীয় যাতায়াত, কৃষিপণ্য, ও ব্যবসায়িক মালামাল পরিবহন, এমনকি জরুরি রোগী হাসপাতালে নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা মো. আলম দফাদার বলেন, আমার মেয়ে কয়েক দিন আগে অসুস্থ হয়ে পড়লে কাঁচা রাস্তায় অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে কাঁদা পানি জমে গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এমনকি মানুষের হেঁটে যাওয়াই কঠিন, সে সময় মেয়েকে হাসপাতালে নিতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। ঠিক সময় মত নিতে না পারায় অনেক অসুস্থ হয়ে পড়ে। অতিরিক্ত টাকা খরচ করে চিকিৎসা করাতে হয়েছে। খালটি চলাচলের উপযোগী থাকলে এত দুর্ভোগ হতো না।
কাটাখালী বাজারের ব্যবসায়ী আল আমিন মৃধা বলেন, বর্ষা মৌসুমে কাঁচা রাস্তা যাতায়াতের অনুপযোগী থাকায় দোকানের মালামাল আনা কষ্ট কর হয়ে যায়। আগে নৌপথে নৌকায় বা ট্রলারে করে মালামাল আনতাম। এখন আগাছার কারণে নৌকা চলতে পারে না। এতে বর্ষা মৌসুমে ব্যবসা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ছে। আমরা যারা কাটাখালী বাজারে ব্যবসা করি এখানকার মানুষের চাহিদা মত নিত্য প্রয়োজনীয় পন্য আনতে হলে হিসাবের চেয়ে বেশি অর্থ গুনতে হয়। এভাবে চললে আমরাও টিকতে পারব নাহ আর এখানকার মানুষের চাহিদা পূরণ করতে পারব নাহ।
ঐ গ্রামের কৃষক স্বপন মিয়া বলেন, অতিরিক্ত বৃষ্টি হলে আমাদের বীজতলা গুলো ডুবে যায়। এ কয়েক দিনের ভারি বর্ষণে জলবদ্ধতার কারণে আমাদের অনেক ধানের বীজ নষ্ট হয়ে গেছে। আবার মাঝে মধ্যে চাষাবাদের জন্য যে পানি দরকার হয় তখন তা পাওয়া যায় নাহ। এজন্য একটা স্লুইস গেট খুবই দরকার।
এলাকাবাসীর দাবি, পশ্চিম কাটাখালী বেড়িবাঁধে দ্রুত একটি স্লুইস গেট নির্মাণ করা হোক এবং কাটাখালী খাল থেকে জলজ আগাছা অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া হোক। এতে নৌ-যোগাযোগ পুনরায় সচল হবে, জলাবদ্ধতা কমবে এবং বর্ষা মৌসুমে চার গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব হবে। এ বিষয়ে কলাপাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শাহ্ আলম জানান, স্লুইস গেট নির্মাণ প্রকল্পের নকশা (ডিজাইন) অনুমোদিত হয়েছে এবং ব্যয় প্রাক্কলন (স্টিমেট) প্রস্তুত রয়েছে। প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক অনুমোদন পেলেই নির্মাণকাজ শুরু করা হবে।
দীর্ঘদিন ধরে অবহেলায় পড়ে থাকা কাটাখালী খাল দ্রুত পুনরুদ্ধার ও স্লুইস গেট নির্মাণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি উদ্যোগ কামনা করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।



মন্তব্য