সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬
 

দৌলতখানের মেঘনা নদী এখন মাছশূন্য,চরম হতাশায় দিন কাটছে জেলেদের

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬

---

জামাল খান, জেলা সংবাদদাতা
ইলিশের ভরা মৌসুম চললেও ভোলার দৌলতখানে মেঘনা নদী এখন মাছশূন্য। নদীতে দিন-রাত জাল ফেলেও কাঙ্ক্ষিত ইলিশের দেখা পাচ্ছেন না জেলেরা। ফলে চরম হতাশায় দিন কাটছে উপকূলীয় এই অঞ্চলের হাজারো জেলে পরিবারের। মাছ না থাকায় সংসার চালানোই যেখানে দায় হয়ে পড়েছে, সেখানে মাথার ওপর চেপে বসেছে বিভিন্ন এনজিওর ঋণের কিস্তির বোঝা।
​নদীতে জাল আছে, মাছ নেই
​সাধারণত এ সময়ে মেঘনা নদীতে জেলেদের জালে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়ার কথা। ঘাটগুলো মুখরিত থাকার কথা ক্রেতা-বিক্রেতার হাঁকডাকে। কিন্তু বর্তমান চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো। দৌলতখানের বিভিন্ন মাছ ঘাট ঘুরে দেখা গেছে, নদী থেকে শূন্য হাতে ঘাটে ফিরছেন জেলেরা। দু-একটি যা মাছ পাওয়া যাচ্ছে, তা দিয়ে নৌকার তেলের খরচই উঠছে না।

​মাছ না থাকায় চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন জেলেরা। একদিকে চাল-ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের ঊর্ধ্বগতি, অন্যদিকে ধার-দেনা ও এনজিওর কিস্তির চাপ—সব মিলিয়ে দিশেহারা তারা।
​স্থানীয় কয়েকজন জেলে ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করে বলেন:
​”নদীতে ইলিশ ধরার আশায় চড়া সুদে এনজিও এবং দাদনদারদের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে জাল-নৌকা মেরামত করেছি। এখন নদীতে মাছ নেই। ধার-দেনা করে কোনোমতে একবেলা খেয়ে না খেয়ে বেঁচে আছি। এর মধ্যে প্রতিদিন কিস্তির টাকার জন্য এনজিওর লোকেরা এসে তাগাদা দিচ্ছে। আমরা এখন যাবো কোথায়?”

​শুধু জেলেই নন, ইলিশ না থাকায় লোকসানের মুখে পড়েছেন মাছের আড়তদার ও ঘাট মালিকেরাও। জেলেদের দাদন (অগ্রিম টাকা) দিয়ে এখন তারা পড়েছেন বিপাকে। মাছ বিক্রি না হলে দাদনের টাকা উদ্ধার হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। ফলে পুরো দৌলতখানের মৎস্য খাত স্থবির হয়ে পড়েছে।
​জেলেদের দাবি ও প্রত্যাশা
​স্থানীয় সচেতন মহল ও জেলে সংগঠনের নেতারা জানান, এই সংকটকালীন সময়ে জেলেদের টিকে থাকার জন্য সরকারি সহায়তার পরিধি বাড়ানো দরকার। বিশেষ করে এনজিওগুলোর ঋণের কিস্তি আপাতত স্থগিত রাখা এবং জেলেদের জন্য বিশেষ রেশনিং ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন তারা।
​নদীতে আবার কখন রূপালি ইলিশের দেখা মিলবে এবং তাদের সংসারে সচ্ছলতা ফিরবে—এখন সেই প্রতীক্ষায় দিন গুনছেন দৌলতখানের হাজারো জলপুত্র।

মন্তব্য

সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর

Developed By: Dotsilicon