![]()
মোঃ শাকিল মোল্লা, রাজবাড়ী প্রতিনিধি:
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার পশ্চিম উজানচর এলাকায় ঢাকা পাইরোলাইসিস কোম্পানির বিটুমিন তৈরির কারখানায় বয়লার বিস্ফোরণে মারাত্মক অগ্নিদগ্ধ দুই শ্রমিক ঘটনার ৫ দিন পর মারা গেছেন। ২৯ জুন সোমবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া দুই শ্রমিক হলেন সোহেল রানা (২৪) ও শাওন মন্ডা (১৬)।
এদের মধ্যে সোহেল সোমবার রাত আড়াইটা এবং শাওন সকাল সোয়া ৯টার দিকে মারা যান। আগুনে সোহেলের দেহের অন্তত ৬০ শতাংশ এবং শাওনের দেহের ৭০ শতাংশ ঝলসে গিয়েছিল। মৃত সোহেল রানা গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মোল্লা পাড়া গ্রামের সামসুদ্দিনের ছেলে এবং শাওন মন্ডা (১৬) মৌলভীবাজার জেলার জুরি উপজেলার বিনন্দাপুর গ্রামের ছুনু মন্ডার ছেলে।
পুলিশ ও ঢাকা পাইরোলাইসিস কোম্পানি কতৃপক্ষ আহত দুই শ্রমিকের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
জানা গেছে , গত ২৫ জুন বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টার দিকে প্রতিদিনের মতো তারা কারখানার বয়লারের মধ্যে টায়ার পুড়িয়ে বিটুমিন তৈরির কাজ করছিলেন। হঠাৎ কারখানার বয়লার বিস্ফোরিত হয়ে দুজন শ্রমিক অগ্নিদগ্ধ হলে কারখানা ও এলাকাবাসী দ্রুত তাদের দুজনকে উদ্ধার করে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিকভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাদের দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। অভিযোগ রয়েছে, প্রায় ৫ বছর আগে গোয়ালন্দের কয়েকজন প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতার সহায়তায় পরিবেশ অধিদপ্তরকে ম্যানেজ করে জনবহুল এই এলাকায় পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর এ কারখানাটি স্হাপন করেন।
ইতিমধ্যে কারখানাটির অনুমোদনের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও চলতি বছর পুনারায় অনুমোদন না নিয়েই বহাল তবিয়তে কাজ করে যাচ্ছেন।
স্হানীয়দের অভিযোগ, কারখানাটি হতে বের হওয়া টায়ার পুড়ানোর কালো ধোয়ার দূর্গন্ধে তাদের বাড়িঘরে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। বাতাসে কালো ধোয়া এসে ঘর বাড়ি, গাছপালা ও মাঠের ফসল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কালো ধোয়া ও দূর্গন্ধে তারা ঠিকমতো খাবার দাবারও গ্রহন করতে পারছে না।
দূর্ঘটনার বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী বাহাউদ্দীন বাহার মুঠোফোনে যুগান্তরকে জানান, আমরা মারা যাওয়া দুই শ্রমিককে বাঁচাতে সর্বোচ্চ মানের চিকিৎসা সেবার ব্যবস্থা করি। কিন্তু তাদের বাঁচানো গেল না। তিনি দাবি করেন কারাখানায় বয়লার বিস্ফোরণ ঘটেনি। বয়লারের ভেতরের অতিরিক্ত গরম গ্যাস বের হয়ে দুই শ্রমিক দ্বগ্ধ হন। শ্রমিকদের জন্য পর্যাপ্ত নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়েছে। কিন্তু নিজেদের অসাবধানতার জন্য দুই শ্রমিক আহত হন বলে তিনি দাবি করেন।
কোম্পানির পক্ষ হতে মৃত দুই শ্রমিকের পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তা দেয়া হবে।
গোয়ালন্দ ঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সফিকুল ইসলাম বলেন, মারা যাওয়া দুই শ্রমিকের মরদেহের সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। কারখানাটি এখনও তালাবন্ধ আছে এবং ম্যানেজমেন্টের সবাই আত্নগোপনে রয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাথী দাস বলেন, দুই শ্রমিকের মৃত্যুর খবরটি আমি শুনেছি। বিষয় অত্যন্ত দুঃখজনক। এ বিষয়ে পরবর্তীতে যথাযথ আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হবে।



মন্তব্য