![]()
আব্দুল হালিম নিরব, ক্রাইম রিপোর্টার চট্টগ্রাম
চট্টগ্রাম মহানগরীর ইপিজেড থানাধীন আকমল আলী রোড (৯০ কলোনি) এলাকায় কথিত ‘ডলি হিজড়া’র মাদক ও অনৈতিক দেহব্যবসার আস্তানার সংবাদে এক নিরীহ ও সম্মানীয় ব্যক্তির নাম জড়িয়ে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছেন ভুক্তভোগী মোহাম্মদ খুরশিদ আলম।
গত ১৩ জুন, ২০২৬ (শনিবার) ‘আজকালের দর্পণ’ নামক একটি মাল্টিমিডিয়া প্ল্যাটফর্মে প্রচারিত সংবাদে কোনো প্রকার সত্যতা যাচাই না করে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সাথে কথা না বলে আকমল আলী রোড খালপাড় পকেট গেট এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ খুরশিদ আলমকে ডলি হিজড়ার বাসার “জমিদার” বা “বাড়ির মালিক” হিসেবে উল্লেখ করা হয়। অথচ অনুসন্ধানে জানা যায়, এই কলোনি বা ডলি হিজড়ার ভাড়াবাসার সাথে মোহাম্মদ খুরশিদ আলমের ন্যূনতম কোনো সম্পর্ক নেই।
২৬ বছরের সততার জীবনে কালিমার চেষ্টা:
প্রতিবাদে মোহাম্মদ খুরশিদ আলম জানান, তিনি আকমল আলী রোড খালপাড় পকেট গেট ৯০ কলোনি এলাকায় বসবাস করেন এবং স্থানীয় একটি হুমায়মা জামে মসজিদে ওরফে তিনকোনা মসজিদ দীর্ঘ ২৬ বছর ধরে অত্যন্ত নিষ্ঠা ও সততার সাথে প্রদান খাদেম হিসেবে কর্মরত আছেন। দীর্ঘ এই ২৬ বছরে কোনো ধরনের অসৎ, অনৈতিক বা অসামাজিক কাজের সাথে তার নাম জড়ায়নি। উক্ত এলাকায় তার নিজের কোনো বাড়ি কিংবা ভাড়া দেওয়ার মতো কোনো কলোনিও নেই। কিন্তু সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এবং সাংবাদিকতার নূন্যতম নীতি লঙ্ঘন করে তার সাথে কোনো প্রকার সরাসরি বা মুঠোফোনে যোগাযোগ না করেই এই মানহানিকর মিথ্যা সংবাদ প্রচার করা হয়েছে। তিনি এই সাজানো ও বিভ্রান্তিকর সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
এলাকাবাসীর ক্ষোভ ও প্রকৃত সত্য:
এদিকে ডলি হিজড়ার মাদক ও দেহব্যবসার সাম্রাজ্য নিয়ে আকমল আলী রোড এলাকার সাধারণ মানুষের ক্ষোভ দীর্ঘদিনের। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, ডলি হিজড়া প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে ওই এলাকায় বেপরোয়াভাবে ইয়াবাসহ মাদক ও নারী ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। একাধিকবার তাকে পুলিশ গ্রেফতার করলেও জামিনে এসে সে পুনরায় এই অনৈতিক বাণিজ্য শুরু করে।
এলাকাবাসী গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ডলি হিজড়ার মতো চিহ্নিত অপরাধীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো খুরশিদ আলমের মতো একজন সম্মানিত ও আল্লাহভীরু মানুষকে জড়িয়ে মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন করায় আমরা স্তব্ধ। সংবাদ প্রকাশের আগে সাংবাদিকদের উচিত ছিল এলাকায় এসে প্রকৃত সত্য জানা। ভুল সংবাদ পরিবেশনের কারণে প্রকৃত অপরাধীরা আড়ালে আবডালে থেকে যাচ্ছে, আর সমাজের নিরপরাধ মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছে।”
এলাকাবাসী এবং ভুক্তভোগী খুরশিদ আলম অনতিবিলম্বে ডলি হিজড়ার এই অন্ধকার আস্তানা গুঁড়িয়ে দিয়ে তাকে আইনের আওতায় আনার জন্য চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার এবং স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন। একই সাথে মূলধারার সাংবাদিকতার পরিপন্থী এমন মিথ্যা সংবাদ প্রত্যাহার ও দুঃখ প্রকাশের আহ্বান জানানো হয়েছে।



মন্তব্য