শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬
 

ইনভেস্টিগেশন: ডান্স একাডেমির আড়ালে অনৈতিকতার স্বর্গরাজ্য

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ এপ্রিল ২০২৬

---

নিজস্ব প্রতিবেদক

দিনের আলোয় যা একটি নাচের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, রাতের আঁধারে তা-ই হয়ে ওঠে অনৈতিকতার স্বর্গরাজ্য। চট্টগ্রামের মধ্যম হালিশহর এলাকায় ডান্স একাডেমির আড়ালে চলছে অসামাজিক কার্যকলাপের এক বিশাল সিন্ডিকেট। আকরাম আলী রোডের ভেতর একটি সেলুন দোকানের ওপর দোতলায় অবস্থিত  মুরাদ রাইজিং ডান্স একাডেমির বিরুদ্ধে উঠেছে ভয়ংকর সব অভিযোগ। অভিযোগ রয়েছে, নাচের তালের আড়ালে এখানে নিয়মিত বসে দেহ ব্যবসা ও মাদকের আসর। আর এই অপরাধ চক্রকে প্রশ্রয় দিচ্ছে নামধারী কিছু সাংবাদিক ও তথাকথিত মানবাধিকার সংগঠনের কর্মীরা।

চট্টগ্রামের মধ্যম হালিশহর এলাকায় আকরাম আলী রোডের ভেতরে একটি সেলুন দোকানের ওপরের তলায় জাঁকিয়ে বসেছে এই ‘মুরাদ রাইজিং ডান্স একাডেমি’। স্থানীয়দের অভিযোগ, ওপর থেকে ডান্স ক্লাবের সাইনবোর্ড ঝুললেও এর ভেতরকার দৃশ্যপট অত্যন্ত নোংরা। প্রতিদিন সন্ধ্যা গড়াতেই এখানে বাড়তে থাকে বহিরাগত নারী-পুরুষের আনাগোনা।

 ---

অনুসন্ধানে জানা যায়, এই পুরো সিন্ডিকেটটি নিয়ন্ত্রণ করছেন স্বঘোষিত ডান্স মাস্টার মুরাদ। নাচের প্রশিক্ষণের কথা বলে তিনি অল্পবয়সী তরুণ-তরুণীদের ভুল বুঝিয়ে এই অন্ধকার জগতে নিয়ে আসছেন। এলাকাবাসীর দাবি, এখানে নিয়মিত ডিজে পার্টির নামে চলে উচ্চশব্দে গান-বাজনা, মাদকের সেবন এবং অনৈতিক অসামাজিক কার্যক্রম।

 এই ডান্স একাডেমির এই বেপরোয়া কর্মকাণ্ডের পেছনে রয়েছে একটি শক্তিশালী প্রভাবশালী মহল। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, স্থানীয় কয়েকজন নামধারী সাংবাদিক এবং নামসর্বস্ব কিছু মানবাধিকার সংগঠনের নেতাকর্মীরা এই অনৈতিক ব্যবসার সাথে সরাসরি জড়িত। অভিযোগ রয়েছে, তারা মুরাদের এই আস্তানা থেকে নিয়মিত মাসোহারা বা বখরা আদায় করেন। যখনই এলাকাবাসী প্রতিবাদ করে বা আইনি ঝামেলার সম্ভাবনা তৈরি হয়, তখন এই কথিত সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মীরা তাদের পরিচয় ব্যবহার করে মুরাদকে রক্ষা করেন।

 ---

পরিচয় গোপন রাখার শর্তে স্থানীয় এক প্রবীণ বাসিন্দা বলেন— “আকরাম আলী রোডের মতো জায়গায় এমন নোংরামি মেনে নেওয়া যায় না। সেলুন দোকানের ওপর দিয়ে সারারাত মানুষের আসা-যাওয়া। আমরা যারা পরিবার নিয়ে থাকি, তাদের জন্য এটা চরম লজ্জার। কেউ প্রতিবাদ করলেই ‘সাংবাদিক’ আর ‘বড় ভাই’দের ভয় দেখানো হয়। আমরা প্রশাসনের কাছে এই ডান্স ক্লাবটি দ্রুত বন্ধের দাবি জানাচ্ছি।”

এসব গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে কথিত ডান্স মাস্টার মুরাদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, একটি সুস্থ সামাজিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে এই ‘টর্চার সেল’ সদৃশ ডান্স একাডেমি অবিলম্বে বন্ধ করা প্রয়োজন। এই বিষয়ে চট্টগ্রামের প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন মধ্যম হালিশহরের সাধারণ মানুষ।

মন্তব্য

সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর

Developed By: Dotsilicon