![]()
জাবি প্রতিনিধি
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) ‘Revisiting The July Uprising 2024: Documenting Memories Through an Oral History Archive’ শীর্ষক গবেষণা সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (১৩ জুন) বিকেল ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়াজেদ মিয়া বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্রের সেমিনার কক্ষে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।
সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য মাহমুদা হাবীবা।প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “জুলাই বিপ্লব কোনো নির্দিষ্ট দল বা মতের নয়; এটি বাংলাদেশের ২০ কোটি মানুষের অভিন্ন সম্পদ। এই আন্দোলন মানুষকে স্বাধীনতার প্রকৃত স্বাদ ও মাথা উঁচু করে বাঁচার শিক্ষা দিয়েছে। ভবিষ্যতে ইতিহাস বিকৃতি রোধে এবং বিভ্রান্তির সুযোগ না রাখতে জুলাই অভ্যুত্থানের সঠিক ও তথ্যভিত্তিক ডকুমেন্টেশন নিশ্চিত করা নৈতিক দায়িত্ব বলেও উল্লেখ করেন তিনি।”
তিনি আরও বলেন, “এলাকাভিত্তিক প্রতিটি ঘটনা এবং শহীদদের আত্মত্যাগের সঠিক ইতিহাস দ্রুত নথিভুক্ত করতে হবে, যাতে সময়ের সঙ্গে তথ্যের বিচ্যুতি না ঘটে কিংবা তা কল্পকাহিনিতে রূপ না নেয়। তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ পথচলায় জুলাইয়ের অর্জন শক্তির উৎস হয়ে থাকবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।”
সভাপতির বক্তব্যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, “জুলাইয়ের স্মৃতি সংরক্ষণ এবং একটি নির্ভরযোগ্য ইতিহাস নির্মাণ জাতীয় দায়িত্ব। অতীতে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণে নানা বিতর্কের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জুলাইয়ের ইতিহাস রক্ষায় কেবল আবেগ নয়, বরং সঠিক গবেষণা পদ্ধতি অনুসরণ করে প্রামাণ্য দলিল তৈরি করা জরুরি।”
আরও বলেন, “একটি নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ ইতিহাস নির্মাণের জন্য আহত ব্যক্তি এবং অভিযুক্ত—উভয় পক্ষের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা (ফার্স্ট পারসন অ্যাকাউন্ট) সংগ্রহ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের কাছে সত্য ইতিহাস পৌঁছে দিতে ডিজিটাল মাধ্যমকে কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।”
সেমিনারে উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মো. শামছুল আলম, আইকিউএসি’র পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. সোহেল রানা, ওয়াজেদ মিয়া বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. মনোয়ার হোসেন, শিক্ষার্থী কল্যাণ ও পরামর্শদান কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক মো. জামাল উদ্দিন, নেত্রকোণা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক ড. মুহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম এবং ডুয়েটের প্রভাষক মো. মামুনুর রশিদ বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও গবেষণা প্রকল্পের পরিচালক কামরুন নেছা খন্দকার। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।



মন্তব্য