![]()
সম্মানিত নেতৃবৃন্দ, আমরা ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদল-এর পদ প্রত্যাশী দীর্ঘদিনের ত্যাগী ছাত্রনেতারা। গত ১৭ বছর স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে আমরা রাজপথে ছিলাম। লাঠিচার্জ, হামলা, মামলা, কারাবরণ—কোনো কিছুই আমাদের থামাতে পারেনি।
এই দীর্ঘ সংগ্রামে আমরা অনেক কিছু হারিয়েছি।
কেউ হারিয়েছি বাবা-মা,
কেউ জেল খেটেছি, হয়েছি সাজাপ্রাপ্ত আসামি,
কেউ বরণ করেছি স্থায়ী পঙ্গুত্ব,
কেউ হারিয়েছি সরকারি চাকরির বয়স,
কেউ হারিয়েছি ভালোবাসার মানুষ।
আমাদের জীবনে পাওয়া বলতে তেমন কিছু নেই। তবুও দলকে ভালোবেসে, আদর্শকে বুকে ধারণ করে আমরা আন্দোলনের সামনের কাতারে থেকেছি।
জুলাইয়ের ছাত্র আন্দোলনেও আমাদের ভূমিকা ছিল অগ্রগণ্য। জীবনের সর্বোচ্চ ঝুঁকি নিয়েই রাজপথে ছিলাম। ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করার মধ্য দিয়ে যে রাজনৈতিক পরিবর্তন এসেছে, তার পেছনে আমাদেরও ত্যাগ রয়েছে। কিন্তু সেই জুলাই আন্দোলনের কোনো স্বীকৃতি আমরা পাইনি।
আমরা মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য লড়েছি। অথচ আজ দেখি, আমাদের নিজেদেরই কোনো অধিকার নেই।
বলা হয়েছিল—মিছিলে থাকা শেষ কর্মীটিও তার রাজনৈতিক পরিচয় পাবে।
কিন্তু বাস্তবতা হলো, আমরা যারা সামনের সারিতে ছিলাম, তারাই এখনো কোনো সাংগঠনিক পরিচয় পাইনি।
আমরা বারবার কেন্দ্রীয় সংসদের কাছে আবেদন জানিয়েছি—ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করে আমাদের একটি সাংগঠনিক পরিচয় দিন। কিন্তু প্রতিবারই আশ্বাস মিলেছে, বাস্তবায়ন হয়নি।
দল কর্মশালার আয়োজন করেছে—প্রশিক্ষণ দিয়েছে। সেখানে কার্ড ছাড়া কেউ অংশ নিতে পারেনি। আমরা দেখেছি, ১৭ দিন রাজনীতি করা অনেকে কার্ড পেয়েছে। অথচ ১৭ বছর রাজনীতি করেও আমরা একটি কার্ড পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করতে পারিনি—এটা আমাদের জন্য কষ্টের, অপমানের এবং গভীর বেদনার।
আজ আমাদের পরিবার আমাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত। দল আমাদের দায়িত্ব নেবে কি না—সেটা তো দূরের কথা, কাগজে-কলমে একটি সাংগঠনিক পরিচয়ও দিচ্ছে না।
আমরা শুধু একটি স্পষ্ট উত্তর চাই।
যদি আমাদের আর প্রয়োজন না থাকে, তাহলে দয়া করে স্পষ্ট করে বলুন—“তোমাদের যখন প্রয়োজন ছিল, তখন ব্যবহার করেছি; এখন আর প্রয়োজন নেই।”
এই সত্য কথাটুকু শুনলেও হয়তো আমরা মানসিকভাবে সান্ত্বনা পেতাম।
আমরা এখনো দলকে ভালোবাসি। এখনো বিশ্বাস করি—দল ত্যাগীদের মূল্যায়ন করবে।
আমাদের ত্যাগ, সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের ন্যূনতম স্বীকৃতি হিসেবে একটি সাংগঠনিক পরিচয় প্রত্যাশা করি।
ইতি,
ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের
ত্যাগী ও পদ প্রত্যাশী ছাত্রনেতৃবৃন্দ



মন্তব্য