সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬
 

দুর্নীতিবিরোধী সংগঠন গ্রীণফোর্স বাংলাদেশের লিডারশিপ কনফারেন্স অনুষ্ঠিত

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫

---

 এনামুল হক, বিশেষ প্রতিনিধি

“দুর্নীতিকে না বলুন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলুন, দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ুন”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে গ্রীণফোর্স বাংলাদেশের উদ্যোগে দুই দিনব্যাপী লিডারশিপ কনফারেন্স–২০২৫ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) বিকেল ৪টায় এভারকেয়ার হাসপাতাল সংলগ্ন স্থানে গ্রীণফোর্স বাংলাদেশের বাছাইকৃত ৪০ জন জেলা ও উপজেলা সভাপতি-সেক্রেটারির অংশগ্রহণে কনফারেন্সের প্রথম দিনের কার্যক্রম শুরু হয়। এতে গ্রীণফোর্স বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মিকাইল রহমান উপস্থিত ছিলেন।

দ্বিতীয় দিনের অনুষ্ঠান শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) এশিয়ান প্যাসিফিক হোটেলের কনফারেন্স রুমে দুই পর্বে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে ন্যাশনাল কো-অর্ডিনেটর ডা. এস এম হক-এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার মিয়া মো. আলী আকবর আজিজী।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফার্স্ট সেক্রেটারি (ব্রুনাই) রোজামাই আব্দুল্লাহ। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন গ্রীণফোর্স বাংলাদেশের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মোস্তাফিজুর রহমান।

অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল নুরুজ্জামান চৌধুরী, গ্রীণফোর্সের উপদেষ্টা নৌবাহিনীর কমান্ডার অধ্যাপক নোমান হোসেন (অব.) এবং গ্রীণফোর্স বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মিকাইল রহমান।

বক্তারা বলেন, দুর্নীতি মরণব্যাধি ক্যান্সারের চেয়েও ভয়ংকর একটি সামাজিক ভাইরাস। এই ভাইরাস রাজধানী থেকে প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত রন্ধ্রে রন্ধ্রে ছড়িয়ে পড়েছে। ১৮ কোটি মানুষের দেশে মাত্র ক্ষমতাধর কয়েক শতাংশ মানুষই এই দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত। বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হলে দুর্নীতিবাজদের প্রতিহত করতে হবে। এটি একজন মুসলমানের ঈমানি দায়িত্ব বলেও বক্তারা উল্লেখ করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে দুর্নীতি দমন কমিশনার মিয়া মো. আলী আকবর আজিজী তার স্মৃতিচারণ করে বলেন, কর্মজীবনের শুরুতে বিচারক থাকাকালীন তার প্রথম সন্তান জন্মগ্রহণ করে। সে সময় তিনি মাত্র ১ হাজার ৮০০ টাকা বেতনে চাকরি করতেন। অর্থের অভাবে সন্তানের জন্য দুধ কিনতে পারেননি, এমনকি তিন বেলা পেট ভরে খেতে পারেননি। তবুও তিনি কখনো ঘুষ বা দুর্নীতির সঙ্গে জড়াননি।

তিনি বলেন, নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে দীর্ঘদিন বিচারকের দায়িত্ব পালন করেও তিনি দুর্নীতির কাছে আপস করেননি। আজ আল্লাহ তাকে দুর্নীতি দমনের একটি সুযোগ দিয়েছেন বলে তিনি বিশ্বাস করেন। কোনো অবস্থাতেই বাংলাদেশে দুর্নীতি চলতে দেওয়া যাবে না।

তিনি আরও বলেন, ২০১৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে মানুষ জাগ্রত হয়েছে। এখনই সময় অন্যায়ের বিরুদ্ধে জাগ্রত মানুষগুলোকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার।

এ সময় তিনি গ্রীণফোর্সের উপজেলা ও জেলা নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, যেখানে নিয়মবহির্ভূত ও আইনবিরোধী কিছু দেখবেন, সেটিকে দুর্নীতি হিসেবে চিহ্নিত করে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তুলবেন। প্রয়োজনে তথ্য-উপাত্ত ও প্রমাণসহ আমাদের জানাবেন। আমরা আপনাদের পাশে আছি এবং থাকব।

প্রধান বক্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমরা অবসরপ্রাপ্ত, আমাদের এখন আর কথা বলতে ভয় নেই। আপনারা গ্রীণফোর্স প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দেশব্যাপী দুর্নীতির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হন—আমরা আপনাদের পাশে আছি।

গ্রীণফোর্সের উপদেষ্টা মেজর জেনারেল নুরুজ্জামান চৌধুরী (অব.) বলেন, আমি মেজর জেনারেল থেকে অবসর নিলেও আমার পরিবারে এক টাকার দুর্নীতিও খুঁজে পাবেন না—এটি আমার চ্যালেঞ্জ। গ্রীণফোর্স বাংলাদেশের উপদেষ্টা হিসেবে আপনাদের সঙ্গে নিয়ে আমি দুর্নীতির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে চাই। আপনাদের সহযোগিতা পেলে ইনশাআল্লাহ কৃষক, দিনমজুর, আলেম, ইমাম, শিক্ষকসহ সব শ্রেণির মানুষকে সঙ্গে নিয়ে মাঠে নামব।

গ্রীণফোর্স বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মিকাইল রহমান বলেন, গ্রীণফোর্স বাংলাদেশ একটি অরাজনৈতিক ও অলাভজনক দুর্নীতিবিরোধী সংগঠন। আগামী ছয় মাসের মধ্যে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত ‘দুর্নীতি করা যাবে না, দুর্নীতি চলবে না—যেখানে দুর্নীতি, সেখানেই প্রতিরোধ’ এই মিশন বাস্তবায়নে আমরা কাজ শুরু করেছি। ইনশাআল্লাহ আপনাদের সহযোগিতা পেলে আমরা সফল হবই। এ সময় তিনি আগামী ৫ বছরের মধ্যে বাংলাদেশ দূর্নীতিমুক্ত করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

মন্তব্য

সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর

Developed By: Dotsilicon