মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬
 

শিক্ষার আলো ছড়ালেও আলো ছড়াতে পারেনি ভবনের উন্নয়নে

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

---

মো.জিয়াউল ইসলাম,পাথরঘাটা (বরগুনা)প্রতিনিধি

দেশের সর্ব দক্ষিণবঙ্গে উপকূলীয় অঞ্চল বলেশ্বর নদী তীরবর্তী সংলগ্ন । ঝড়ে পড়া ছেলে-মেয়েদের মেধার বিকাশ ও শিক্ষার আলো ছড়ালেও উন্নয়নের আলো ছড়াতে পারেনি বিদ্যালয় ভবন। পাথরঘাটা উপজেলার ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ড এলাকায় অবস্থিত উপজেলার অন্যতম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রুহিতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে। এই বিদ্যালয়টি পাথরঘাটা উপজেলার উপকূলীয় এলাকার বলেশ্বর নদী তীরবর্তী সংলগ্ন ও পাঁচটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এর মধ্যে একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় যেখানে ১৯৯১ সাল থেকে মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার আলো জ্বালিয়ে আসছে । কিন্তু জ্বালাতে পারেনি বিদ্যালয়ের উন্নয়নের আলো। এই এলাকার উপর দিয়ে প্রতি বছর কোনো না কোনো ঘূর্ণিঝড়ের তান্ডব চালায়। সেই তান্ডবে লন্ডভন্ড হয় । বাড়িঘর সহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ।সেখানেই অবস্থান রুহিতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়। গত সিডার থেকে শুরু করে রেমাল পর্যন্ত তান্ডবের মুখে পড়ে এই বিদ্যালয়টি । কিন্তু কোন সরকারি সহযোগিতা আসেনি উপরের কোন ইশারায়। শতশত ছাত্র-ছাত্রী থাকা সত্ত্বেও এখানে ভর্তি হতে রাজি নয় জরাজীর্ণ ভবনে লেখাপড়া করতে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রুহিতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের গত ৩ শিক্ষাবর্ষে এস এস সি পরীক্ষার্থীদের পাসের হার শতকরা ,২০২২ সালে ৭৪.২৯, ২০২৩ সালে ৯২.১১,২০২৪ সালে ৮৩.৮৭, বিদ্যালয়টি ১৯৯১ সালে পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আঃ বারী আজাদ প্রতিষ্ঠা করেন , ১.৬৮ একর জমির উপর দাঁড়িয়ে আছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি। বর্তমানে শিক্ষক ও কর্মচারীদের সংখ্যা-১১জন, ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা- ২৩২জন। প্রধান শিক্ষক মনোজ কুমার বেপারী জানান, বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এই উপকূলীয় অঞ্চলের ঝরে পড়া ছেলে-মেয়েদের নিয়ে বিদ্যালয়টি চলে আসছে সেখান থেকেই ভালো শিক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে ভালো ফলাফল অর্জন আসছে । কিন্তু বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বৈষম্যের শিকার হয়ে আসছে এবং যে ব্যক্তি সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছে সে লুটপাট করেছে কিন্তু অত্র প্রতিষ্ঠানটির উন্নয়নের চিন্তা করেনি শুধু নিজের আখের গোছাতে ব্যস্ত ছিল। বিভিন্ন ঘূর্ণিঝড়ে বিদ্যালয়টি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও আসেনি কোন সরকারি সহযোগিতা! আমরা একটি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ভবনের মধ্যে বিদ্যালয়টির কার্যক্রম চালিয়ে আসছি। বিদ্যালয়ের অধ্যায়নরত ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, তারা জানায়, বিদ্যালয় ভালো শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও এখানে ভালো ছাত্র-ছাত্রীরা ভর্তি হচ্ছেন না । পার্শ্ববর্তী ৫ থেকে ১০ কিলো দূরত্বে স্কুলে ভর্তি হয় । তার একমাত্র কারণ জরাজীর্ণ ভবনে অধ্যায়ন করতে হয়। বৃষ্টিতে হাল চাষ করার মত জমিতে পরিণত হয়। রোদের দিনে গরমে ক্লাস করা কষ্টকর হয় ।তাই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে আবেদন এখানে দ্রুত একটি ভবনের ব্যবস্থা করুন সাবেক অভিভাবক সদস্য মাহবুবুর রহমান বাদল বলেন, এই স্কুলের লেখাপড়ার মান ভালো থাকলেও ভালো নেই ভবন। আশেপাশের শিক্ষার্থীরা শুধু ভবনের অভাবে অন্যত্র গিয়ে ভর্তি হয় । এটা আসলে দুঃখজনক , ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে আকুল আবেদন যাতে এই বিদ্যালয় একটি ভবন পাওয়া যায়। মাধ্যমিক একাডেমিক সুপারভাইজার মো. মনিরুল ইসলাম জানান, পাথরঘাটা উপজেলার মধ্যে এই স্কুলটি বৈষম্য শিকার। পর্যাপ্ত জমির থাকা সত্ত্বেও একটি ভবনের অভাবে আশেপাশের শিক্ষার্থীরা অন্যত্র গিয়ে ভর্তি হয়। আমি ভবনের জন্য অনেকবার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছি ।তবে এবারে পাথরঘাটা উপজেলায় ভবন আবেদনের মধ্যে দ্বিতীয় নাম্বারে রেখেছি ।আশা করছি এর একটি ভাল সমাধান পাওয়া যাবে। পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী অফিসার রোকনুজ্জামান খান এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান , রুহিতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি একেবারেই উপকূলীয় এলাকার নদী তীরবর্তী সংলগ্ন এবং আশেপাশে কোন মাধ্যমিক বিদ্যালয় নেই এখানে পাঁচটি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে যেখানে একটিমাত্র মাধ্যমিক বিদ্যালয় । এই বিদ্যালয়টির শিক্ষার মান অনেকটাই ভালো। তবে এর চেয়েও ভালো করতে হলে, নিশ্চয়ই একটি ভবন দরকার। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে সুপারিশ করে যথাসম্ভব এখানে একটি ভবনের ব্যবস্থা করে দেওয়ার চেষ্টা করব।

মন্তব্য

সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর

Developed By: Dotsilicon