![]()
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
বাংলাদেশের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ইতিহাসে উজ্জ্বল এক নাম সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, প্রখ্যাত সংসদ সদস্য ও বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ১৯৪৫ সালের ৫ মে সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার আনোয়ারপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা ছিলেন চিকিৎসক দেবেন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত এবং মা সুমতি বালা সেনগুপ্ত।
শিক্ষাজীবনে তিনি দিরাই উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং সিলেট এমসি কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে অনার্সসহ স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। এছাড়া ঢাকা সেন্ট্রাল ল কলেজ থেকে এলএলবি ডিগ্রিও লাভ করেন।
ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতিতে সক্রিয় সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল শাখা ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি ছিলেন। ১৯৬৭ সালে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) বিভক্ত হলে তিনি অধ্যাপক মোজাফফর আহমদের নেতৃত্বাধীন অংশে যোগ দেন।
১৯৭০ সালের নির্বাচনে ন্যাপ থেকে প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। মহান মুক্তিযুদ্ধে ৫ নম্বর সেক্টরের অধীন টেকেরঘাট সাব-সেক্টরের প্রথম সাব-সেক্টর কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং পরে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালে সংবিধান প্রণয়ন কমিটির অন্যতম সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে মোট সাতবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে দেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। দিরাই-শাল্লা আসন থেকে তিনি একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
ষাটের দশকের উত্তাল রাজনীতি থেকে উঠে আসা এই বামপন্থি নেতা পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এবং দলটির উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। অসাধারণ বক্তৃতাশৈলী, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা এবং হাস্যরসের মাধ্যমে জটিল বিষয় সহজভাবে উপস্থাপনের অনন্য ক্ষমতার জন্য তিনি সর্বমহলে সমাদৃত ছিলেন।
দীর্ঘ ৫৯ বছরের রাজনৈতিক জীবনের অবসান ঘটে ২০১৭ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি। ওইদিন ভোর ৪টা ২৯ মিনিটে রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত আজও স্মরণীয় তাঁর প্রজ্ঞা, স্পষ্টবাদিতা ও গণমানুষের প্রতি দায়বদ্ধতার জন্য।



মন্তব্য