রবিবার, ৩ মে ২০২৬
 

কাদামাটিতে নাজুক জাবির মেয়েদের রাস্তা, ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ৩ মে ২০২৬

---

 

জাবি প্রতিনিধি

সামান্য বৃষ্টিতেই কর্দমাক্ত হয়ে পড়ছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) নারী শিক্ষার্থীদের আবাসিক হলসংলগ্ন গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়কটি। রাস্তায় পানি ও কাদা জমে থাকায় চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে কয়েক হাজার শিক্ষার্থীকে।

শনিবার (২ মে) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদ থেকে শুরু হওয়া সড়কটি প্রায় পুরোপুরি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। টারজান পয়েন্ট ও বিভিন্ন হলের প্রবেশমুখেও জমে আছে কাদা। পাশাপাশি সড়কটি সরু হওয়ায় কোনো যানবাহন চলাচল করলে পথচারীদের কাদা এড়িয়ে চলার সুযোগ থাকে না। এতে প্রতিনিয়ত ভোগান্তির পাশাপাশি বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও।

এ বিষয়ে সরকার ও রাজনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী সুমাইয়া জাহান বলেন, “প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে ক্লাস, লাইব্রেরি ও অন্যান্য কাজে যাতায়াত করতে হয়। কিন্তু রাস্তার এমন করুণ অবস্থার কারণে প্রায়ই ভোগান্তিতে পড়তে হয়। চলার সময় কাদামাটি ছিটে কাপড় অপরিষ্কার হয়ে যায়।”

বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী নুসরাত ফারিয়া বলেন, “বৃষ্টি হলেই এই রাস্তায় চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে যায়। অনেক সময় জুতা হাতে নিয়ে হাঁটতে হয়, যা খুবই বিব্রতকর।”

পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী শারমিন লিপি বলেন, “রাস্তাটি অনেকদিন ধরেই খারাপ, কিন্তু এখনো কোনো কার্যকর সংস্কারের উদ্যোগ চোখে পড়েনি। এতে আমাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় বিঘ্ন ঘটছে।”

ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী ও জাকসুর কার্যকরী সদস্য নাবিলা বিনতে হারুন বলেন, “মেয়েদের হলসংলগ্ন এই রাস্তাটি সংস্কারের বিষয়ে প্রশাসন অনেক আগেই আশ্বাস দিয়েছিল। তবে রাস্তার উচ্চতা-নিম্নতা নিয়ে কিছু জটিলতার কারণে কাজটি বিলম্বিত হয়েছে। পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত হয় যে, অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় রাস্তাটি সংস্কার করা হবে। আমরা আশা করছি, প্রশাসন দ্রুতই কাজ শুরু করবে এবং শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির অবসান ঘটবে।”

এ বিষয়ে জাকসুর এজিএস আয়েশা সিদ্দিকা মেঘলা বলেন, “রাস্তা সংস্কারের কাজ দ্রুতই শুরু হবে। এর আওতায় মেয়েদের আবাসিক হলের রাস্তাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। কাজ শুরু হলে এ সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করছি।”

শিক্ষার্থীরা দ্রুত সড়কটি সংস্কার এবং কার্যকর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, এটি শুধু ভোগান্তির বিষয় নয়, বরং নিরাপত্তার সঙ্গেও জড়িত।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি।

মন্তব্য

সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর

Developed By: Dotsilicon