মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬
 

লালপুরে ব্যাঙের ছাতার মত গড়ে উঠেছে অবৈধ ইটভাটা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

---

লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধি

নাটোরের লালপুরে প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে  বিভিন্ন এলাকায় ব্যাঙের ছাতার মতো যত্র-তত্র ভাবে  গড়ে উঠেছে অবৈধ ইটভাটা। এতে প্রশাসনের নীরব ভূমিকা। পরিবেশ অধিদপ্তরের অভিযানে পাঁচটি ভাটার মালিককে জরমিনা ও ভেকু দিয়ে ভাটা গুলি গুড়িয়ে দেওয়া হয়। এসব ইটভাটায় আবারও শুরু হয়েছে ইটপুড়ানো কাজ। এছাড়া সরকারি নিয়ম ও আইন না মেনে এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতি ছাড়াই এসব ইটভাটা গড়ে উঠেছে বলে জানা গেছে। ফলে সরকার রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। আর এসব ইটভাটার কারণে মাটিকাটা হচ্ছে কমে যাচ্ছে আবাদি জমির পরিমাণ ও উর্বরতা। এতে করে নষ্ট হচ্ছে ফসলি জমি। আর ইট পুড়ানো কাজে বনজ ও ফলজ গাছ কেটে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে বিভিন্ন প্রজাতের ফলজ ও বনজ গাছ উজাড় হয়ে যাচ্ছে। ইটভাটার কালো ধোয়ার কারণে আসন্ন আম ও লিচুর মুকুলের ব্যাপক ক্ষতির আশংকা করেছেন স্থানীয়রা। অন্যদিকে স্বাসকষ্ট সহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে ছোট শিশু থেকে শুরু করে সব ধরণের মানুষ। ফলে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ছে জনসাধারণ। জানা যায়, উপজেলার পদ্মা নদীর চর ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, থানা ভবন এবং উত্তরবঙ্গের অন্যতম শিল্প প্রতিষ্ঠান নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলের অন্যতম  সিরাজিপুর ফার্মের দুই এক অংশ জমির মধ্যে একটি অবৈধ ইটভাটা রয়েছে।

সেই ইটভাটার কারণেই অন্যান্য বছরের তুলনায় বিগত তিন বছর ধরে সুগার মিলের সিরাজীপুর ফার্ম থেকে সব থেকে কম আখ উৎপাদন হচ্ছে বলে জানা গেছে। এছাড়াও লোকালয়ে প্রায় ৪১ টি অবৈধ ইটভাটা রয়েছে। স্থানীয় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এসব ইটভাটায় নামে মাত্র কিছু অভিযান হলেও জোরালো ভাবে ভাটা মালিকদের বিরুদ্ধে অইনাণুগ ব্যবস্থা গ্রহনের কোন প্রকার প্রদক্ষেপ চোখে পড়েনা বলে অভিযোগ তুলেছে স্থানীয়রা। এছাড়া উপজেলা প্রশাসনের অবহেলায় এসব ইটভাটা গড়ে উঠেছে বলে অভিযোগ তুলেন সচেতন মহল।

 

মতামত, লালপুর সদরের কৃষক বাদশা নওশেদ নেওয়াজ পিঞ্জির লিটন বলেন, ইটভাটার কালো ধোঁয়ার কারণে রবি শস্য সহ বিভিন্ন ফসলের ব্যপক ক্ষতি হচ্ছে।

 এছাড়া ইটভাটার কালো ধোঁয়ার কারণে আম ও লিচুর মুকুল নষ্ট হয়ে যায়। আমের গুটি গুলোতে কালো দাগ দেখা দেয়।

আর নাম প্রকাশে অনইচ্ছুক এক ইটভাটার অংশিদার বলেন, আমরা সরকারকে রাজস্ব দিচ্ছি এবং পরিবেশ অধিদপ্তরে ছাড়াপত্রর জন্য আবেদন করেছি।

 

বিষয়টি নিয়ে নাটোরের পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোঃ রফিকুল ইসলাম বলেন, অবৈধ ইটভাটা চলার কোন প্রকার সুয়োগ নেই এবং অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে।

 

এবিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রীতম কুমাড় হোড় বলেন,সরকারী ভাবে ফসলি জমিতে ইটভাটা স্থাপন করা নিষেধ আছে।

 

এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: মেহেদী হাসান বলেন, অবৈধ ইটভাটা গুলোতে অভিযান করা হবে।

মন্তব্য

সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর

Developed By: Dotsilicon