শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
 

নবীনগরে এমপির নাম ভাঙিয়ে আল আমিন মেম্বারের তাণ্ডব: দেদারসে ভরাট হচ্ছে কৃষি ও খাস জমি, নীরব প্রশাসন!

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

---

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বাঁশ বাজার ও ইব্রাহিমপুর এলাকায় প্রশাসনের নাকের ডগায় দেদারসে চলছে ড্রেজার ও অবৈধ ‘বোমা মেশিন’ দিয়ে নদী থেকে বালু উত্তোলন এবং ফসলি ও খাস জমি ভরাটের মহোৎসব।  স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকার সংসদ সদস্য মান্নান সাহেবের নাম ভাঙিয়ে আল আমিন মেম্বার ও তার সিন্ডিকেট এই অবৈধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। গত ১৫ দিন ধরে জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মহোদয়কে বারবার জানানোর পরও কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। প্রশাসনের একাংশের বিরুদ্ধে ‘মোটা অঙ্কের ঘুষ’ বাণিজ্যের মাধ্যমে এই অবৈধ কাজে সহায়তার অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগী কৃষকেরা।সরেজমিনে গোপন সংবাদ পেয়ে রাত ১২টায় বাঁশ বাজার ব্রিজ এলাকায় গিয়ে দেখা যায় এক ভয়ানক চিত্র। নবীনগরের বাঁশ বাজার ব্রিজের নিচ দিয়ে অন্তত চারটি বড় ট্রলার নোঙর করে রাখা হয়েছে। আশেপাশের মেঘনা নদী থেকে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন নিষিদ্ধ বোমা মেশিনের সাহায্যে নদীর তলদেশ থেকে বালু উত্তোলন করে আনা। এই বালু পাইপলাইনের মাধ্যমে সরাসরি নিয়ে যাওয়া হচ্ছে ইব্রাহিমপুর এতিমখানা সংলগ্ন বিস্তীর্ণ কৃষি জমি ও ডোবাগুলোতে। রাতের আঁধারে একের পর এক ফসলি জমি বালু দিয়ে ভরাট করে ফেলা হচ্ছে।স্থানীয় সাধারণ কৃষকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বিগত সময়ে সাবেক জেলা প্রশাসক মিস শারমিন জাহান স্যার যখন দায়িত্বে ছিলেন, তখন এলাকায় একটি ড্রেজারও চলতে দেওয়া হয় নাই। তিনি শক্ত হাতে কৃষি জমি রক্ষা করেছিলেন। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় হলো, বর্তমান জেলা প্রশাসক এবং স্থানীয় প্রশাসনের কেউ এই বাঁশ বাজার বা ইব্রাহিমপুর এলাকায় কোনো মোবাইল কোর্ট বা অভিযান পরিচালনা করছেন না। কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা মোটা অঙ্কের সুবিধার বিনিময়ে এই সিন্ডিকেটকে রাতে অবৈধ কাজ চালানোর সুযোগ করে দিয়েছেন।”নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক গ্রামবাসী জানান, আল আমিন মেম্বার নিজেকে স্থানীয় সংসদ সদস্য মান্নান সাহেবের লোক পরিচয় দিয়ে পুরো এলাকায় এক প্রকার রামরাজত্ব কায়েম করেছেন। এমপির নাম ব্যবহার করায় কেউ ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না।এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত আল আমিন মেম্বারের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অপরদিকে জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েই দায় সারছেন,এখন পর্যন্ত  কোনো দৃশ্যমান অ্যাকশন নেওয়া হয়নি।এলাকার পরিবেশ ও একমাত্র জীবিকা ফসলি জমি বাঁচাতে এবং এই শক্তিশালী বালু খেকো সিন্ডিকেটের হাত থেকে খাস জমি রক্ষায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ইব্রাহিমপুর ও বাঁশ বাজার এলাকার অসহায় সর্বস্বান্ত কৃষকেরা।

মন্তব্য

সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর

Developed By: Dotsilicon