মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬
 

বাকেরগঞ্জে শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

---

বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার বেগম সামসুদ্দিন তালুকদার কলেজে এক শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে কলেজের সহকারী অধ্যাপক সৈয়দ ইকবাল মাহমুদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হলে অভিযুক্ত শিক্ষকের অপসারণ এবং ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে আন্দোলনে নামে শিক্ষার্থীরা।
গত বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে কলেজ ক্যাম্পাসে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাকেরগঞ্জ উপজেলার বেগম সামসুদ্দিন তালুকদার কলেজের সহকারী অধ্যাপক সৈয়দ ইকবাল মাহমুদের বিরুদ্ধে এক শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ ওঠে। সিসিটিভি ফুটেজ অনুযায়ী, সকাল প্রায় ১০টা ৩১ মিনিটের দিকে কলেজের সিঁড়িতে বসে থাকা ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।
ঘটনার বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ দেখা দেয়। পরে খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজনও কলেজে জড়ো হন।
শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষক সৈয়দ ইকবাল মাহমুদের অপসারণ এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে রোববার সকাল থেকে লিখিত অভিযোগসহ ক্লাস বর্জন করে আন্দোলনের প্রস্তুতি নেয় শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তা নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় বিএনপির সভাপতি মো. ফরিদ হোসেন কলেজে উপস্থিত হন।
পরে কলেজ পরিচালনা কমিটি, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, শিক্ষক ও কর্মচারীদের নিয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের আশ্বাস দেওয়া হলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। ক্তভোগী শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, “তিনি আমার স্পর্শকাতর জায়গায় হাত দেন এবং আমার হাত ধরে টানাটানি করেন। আমি চিৎকার দিলে তিনি আমাকে ছেড়ে দিয়ে দ্রুত ওপরের দিকে চলে যান। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”
অভিযুক্ত সহকারী অধ্যাপক সৈয়দ ইকবাল মাহমুদের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ ব্যাপারে বেগম শামসুদ্দিন কলেজের অধ্যক্ষ জনাব মজিবুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি আমাদেরকে জানান, জনাব ইকবাল মাহমুদকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় কমিটি গঠন করা হবে বলে জানানো হয়।

কলেজের অধ্যক্ষ মো. মজিবুর রহমান বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ওই শিক্ষার্থী লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। এছাড়া ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজও দেখা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, রোববার কলেজ কমিটির বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শিক্ষক সৈয়দ ইকবাল মাহমুদকে সাময়িকভাবে ক্লাস নেওয়া থেকে বিরত রাখা হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ বিষয়ে চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য

সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর

Developed By: Dotsilicon