![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার ইব্রাহিমপুর ও জিনদপুর ইউনিয়নে সরকারি খাস জমি ও ফসলি কৃষি জমি অবৈধ ড্রেজার দিয়ে ভরাট করার মহোৎসব চলছে। স্থানীয় ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (নায়েব) মোঃ হেলালের প্রত্যক্ষ মদদ ও লাখ টাকা ঘুষ বাণিজ্যের মাধ্যমে এই অবৈধ কার্যক্রম চলছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ও সাংবাদিকদের বারবার অবগত করা হলেও রহস্যজনক কারণে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
আজ (৮ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে দেখা যায়, ইব্রাহিমপুর ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের ওমান প্রবাসী বাবুল মিয়ার বাড়ির পাশে একটি এবং পাশের জিনদপুর ইউনিয়নের কাঁঠালিয়া পশ্চিম পাড়ার টিটু মিয়ার একটি—মোট দুটি অবৈধ ড্রেজার দিন-রাত সমানে আবাদি জমি ও খাস জমি ভরাট করে যাচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই অবৈধ ড্রেজার সিন্ডিকেটের পেছনে অন্যতম মূল হোতা হিসেবে কাজ করছেন স্থানীয় বিএনপি নেতা আল আমিন। দৈনিক বাংলার প্রতিচ্ছবি পত্রিকার ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক সালমান জমাদ্দার, আজ সরেজমিনে দেখা গেছে, বাঁশ বাজার এলাকা থেকে এতিমখানার পশ্চিম দিক পর্যন্ত ড্রেজারের পাইপের দীর্ঘ লাইন টানার কাজ তদারকি করছেন স্বয়ং আল আমিন মেম্বার।
অনুসন্ধানে জানা যায়, একেকটি জমি ভরাটের সুবিধা করে দিতে ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মোঃ হেলাল জমি মালিক ও ড্রেজার সিন্ডিকেটের কাছ থেকে অগ্রিম এক লাখ টাকা করে ঘুষ নিচ্ছেন।
মোটা অঙ্কের এই বাণিজ্যের বিনিময়ে তিনি এই অবৈধ কাজের প্রধান শেল্টারদাতা হিসেবে ভূমিকা রাখছেন। এছাড়া ইব্রাহিমপুর বাঁশ বাজার ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় প্রায় ১৫টি ট্রলারে করে দিনরাত সমানে বৈধ ও অবৈধ বালু লোড-আনলোড করা হচ্ছে। এতে নদীর তীরবর্তী এলাকা ও ব্রিজের কাঠামো যেমন ঝুঁকিতে পড়ছে, তেমনি নষ্ট হচ্ছে আশেপাশের বিপুল পরিমাণ আবাদি কৃষি জমি পুকুর জলাশয় ডোবা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক গ্রামবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা ড্রেজারের ভিডিও ও সুনির্দিষ্ট তথ্যসহ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব)-এর সরকারি হোয়াটসঅ্যাপ নাম্বারে পাঠিয় অসংখ্যবার অনুরোধ জানিয়েছি। কিন্তু অদৃশ্য কারণে গত এক সপ্তাহেও বাশ বাজার বালু মহাল ও অবৈধ ড্রেজারের স্পষ্টে কোনো মোবাইল কোর্ট বা অভিযান চালানো হয়নি। প্রশাসনের এই নীরবতায় নায়েব হেলাল, বিএনপি নেতা আল আমিন ও বালু খেকো সিন্ডিকেট আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
এলাকাবাসী ও স্থানীয় সচেতন মহল অবিলম্বে এই অবৈধ বালু ভরাট ও ড্রেজার বাণিজ্য বন্ধ এবং দুর্নীতিবাজ ভূমি কর্মকর্তা মোঃ হেলালের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিভাগীয় কমিশনার ও ভূমি মন্ত্রনালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। এই বালু উক্তলনে আর কারা জড়িত রয়েছে অনুসন্ধান চলমান।



মন্তব্য