![]()
রেজাউল করিম মজুমদার, গাজীপুর
গাজীপুরের বাসন চৌরাস্তা এলাকায় চাকা পাংচার হয়ে বিপাকে পড়া একটি চলন্ত বা থামানো গাড়ী থেকে কাগজপত্র নিয়ে দুই হাজার টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ উঠেছে ট্রাফিক পুলিশ সদস্য সিদ্দিকের বিরুদ্ধে।
গাজীপুর বাসন চৌরাস্তা ও বাইপাস এলাকায় ট্রাফিক পুলিশ সার্জেন্ট, টিআই, এসি ও ডিসিদের বিরুদ্ধে গাড়ী থেকে রেখা (চাঁদা) তোলার নির্দেশ দেওয়া এবং গাড়ী নষ্ট হলে মেরামতে বাধা দিয়ে মামলার ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।রেখার নামে চাঁদাবাজি চালকদের অভিযোগ, বিভিন্ন পয়েন্টে ট্রাফিক পুলিশের নির্দিষ্ট ইশারায় বা নির্দেশে নিয়মিত গাড়ি থেকে চাঁদা বা ‘রেখা’র নামে অর্থ আদায় করা হয়।
মহাসড়কের পাশে কোনো গাড়ী হঠাৎ নষ্ট হয়ে গেলে তা মেরামতের চেষ্টা করলে পুলিশ এসে কাজে বাধা দেয়।গাড়ী সচল করার সুযোগ না দিয়ে উল্টো রেকার বা মামলা দেওয়ার ভয় দেখিয়ে চালকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হয়।চালক তসলিম উদ্দিনের বক্তব্য, “রাস্তায় গাড়ি নষ্ট হলে একটু দাঁড় করিয়ে ঠিক করার উপায় থাকে না। সার্জেন্ট আর ট্রাফিক পুলিশরা এসে জরিমানা বা মামলার ভয় দেখায়। সোজা বলে টাকা দিলে ছাড়, না হলে গাড়ী ডাম্পিংয়ে দেবো। দিনে যা কামাই করি, অর্ধেক পুলিশ আর লাইসেন্সের পেছনে চলে যায়।”
হেলপার রমজানের আকুতি, “আমরা গরিব মানুষ, কষ্ট করে গাড়ী চালাই। চৌরাস্তা আর বাইপাসে এলেই বুক কাঁপে। কখন যে কী বাহানা ধরে টাকা নেয় ঠিক নাই। গাড়ী নষ্ট হইলে ঠিক করতে দেয় না, শুধু চায় টাকা।
ঘটনাটি ঘটে গত মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট ২০২৬) দুপুর ১২টার দিকে। ভুক্তভোগী গাড়িটির (ঢাকা মেট্রো-ট ১৩-১৩৫৩) চালক সুমন ও হেলপার সাব্বির জানান, চট্টগ্রাম থেকে আসার পথে গাজীপুর চৌরাস্তা ফ্লাইওভারের মাথায় পৌঁছালে গাড়িটির একটি চাকা পাংচার হয়ে যায়। তাৎক্ষণিকভাবে ট্রাফিক সিদ্দিক বিষয়টি টের পান এবং গাড়িটি রাস্তার পাশে নিরাপদ সাইড করে রাখতে বলেন।
চালক গাড়িটি সাইড করা মাত্রই ট্রাফিক সিদ্দিক সেখানে আসেন এবং কোনো কিছু শোনার আগেই গাড়ির কাগজপত্র চান। চালক বাধ্য হয়ে কাগজপত্র তার হাতে তুলে দেন। কাগজপত্র হাতে নেওয়ার পর ট্রাফিক সিদ্দিক বলেন, “আমি ভালোর ভালো, খারাপের খারাপ”—এই ডায়লগ দিয়ে কাগজপত্র নিজের কাছে রেখে দেন।কাগজপত্র ফেরত পাওয়ার জন্য চালক ও হেলপার দীর্ঘ দুই ঘণ্টা ধরে একাধিকবার অনুরোধ করেন। কিন্তু ট্রাফিক সিদ্দিক সাফ জানিয়ে দেন, রাস্তার পাশে গাড়ি দাঁড়ালেই দুই হাজার টাকা দিতে হবে। টাকা না দিলে রেকার বিল করা হবে বলে হুমকি দেন তিনি। এরপর তিনি রেকার চালকের হাতে গাড়ির কাগজ দিয়ে ডিউটি শেষ করে চলে যান।
পরে রেকার চালক জানান, ট্রাফিক সিদ্দিক ভাই ২ হাজার টাকা নিতে বলেছেন। তার নির্দেশেই টাকা নেওয়া হচ্ছে এবং এই সম্পূর্ণ টাকাই সিদ্দিককে দিতে হবে। শেষ পর্যন্ত চালক ও হেলপার ১ হাজার টাকা দিয়ে এবং হাত-পা ধরে মাফ চেয়ে গাড়ির কাগজপত্র ফিরিয়ে আনতে বাধ্য হন।ভুক্তভোগীরা এ ধরনের হয়রানি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন।
এই ধরনের অনিয়ম ও হয়রানি পরিবহন শ্রমিকদের জীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে। এসব বিষয়ে চালক ও শ্রমিক সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রশাসনের উচ্চ মহলের কঠোর হস্তক্ষেপ ও তদন্ত দাবি করা হয়েছে।
তবে অভিযোগের বিষয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) এস এম আশরাফুল আলমের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।



মন্তব্য