![]()
রেজাউল করিম মজুমদার, গাজীপুর
গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে বাসের সিটে ময়লা থাকাকে কেন্দ্র করে গত ২৯ আগস্ট ২০২৬ (শনিবার) বিকেলে দর্শনার্থী এবং পার্কের কর্মচারীদের মধ্যে এক অপ্রীতিকর মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এতে নারী দর্শনার্থীসহ কমপক্ষে ৬ থেকে ৮ জন আহত হয়েছেন এবং এ ঘটনায় পার্কের একজন আউটসোর্সিং কর্মচারীকে ইতিমধ্যে বরখাস্ত করা হয়েছে।
ঢাকার বাড্ডা/বারিধারা এলাকার বাসিন্দা সালমা মোস্তারী তাঁর দুই কিশোর ছেলে (আহনাফ মাহিন ও জারিফ) এবং গাড়িচালককে নিয়ে শনিবার দুপুরে সাফারি পার্কে বেড়াতে যান। কোর সাফারির (বন্যপ্রাণী দেখার এলাকা) নির্ধারিত মিনিবাসে ওঠার পর তাঁরা সিটে ময়লা-আবর্জনা ও পলিথিন দেখতে পান। সালমা মোস্তারী পার্কের বাস প্রহরী ফরহাদকে ময়লা পরিষ্কার করতে বললে তিনি উত্তেজিত হয়ে পড়েন এবং বলেন, “এভাবেই যেতে হবে”। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়।
দর্শনার্থীদের অভিযোগ, সালমা মোস্তারী অভিযোগ করেন যে, তর্কাতর্কির পর তাঁদের বহনকারী গাড়িটি নির্দিষ্ট স্থানে না থামিয়ে সরাসরি পার্ক কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পার্কের কর্মীরা লোহার রড/স্টিল লাঠি নিয়ে তাঁদের ওপর হামলা চালায়। তাঁর দুই ছেলেকে টেনেহিঁচড়ে অফিসে নিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। হামলায় সালমা মোস্তারী, তাঁর দুই ছেলে ও চালক রাসেল আহত হন। এছাড়া তাঁদের মোবাইল ফোন ভেঙে ফেলা এবং স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার দাবিও করেন তিনি।
পার্ক কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তারেক রহমান জানান, বাসে ময়লা নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে দর্শনার্থীর এক ছেলে প্রথমে পার্কের এক কর্মচারীকে (মোমিন) মারধর করে। পরে পরিস্থিতি শান্ত করতে তাঁদের পার্ক অফিসে আনা হলে তাঁরা আবারও উত্তেজিত হয়ে স্টাফদের ওপর হামলা চালান, যাতে পার্কের দুই কর্মচারী আহত হন।
১. কর্মচারী বরখাস্ত, ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দ্রুত ভাইরাল হওয়ার পর পার্ক কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে অভিযুক্ত আউটসোর্সিং কর্মী মো. ফরহাদকে বরখাস্ত করে। ২. মামলা দায়ের, ঘটনার রাতেই ভুক্তভোগী দর্শনার্থী সালমা মোস্তারী বাদী হয়ে গাজীপুরের শ্রীপুর থানায় পার্কের কর্মী চন্দন কুমার, মাসুদ রানা ও ধনজয় ধনাসহ অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে একটি লিখিত মামলা/অভিযোগ দায়ের করেছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



মন্তব্য