![]()
আলমগীর হোসেন বাদশা, বিশেষ প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার ইব্রাহিমপুর ইউনিয়নে সরকারি খাস কৃষিজমি দখল করে অবৈধভাবে ড্রেজার ও ট্রলারের মাধ্যমে বালু-মাটি উত্তোলন এবং কৃষিজমি ভরাটের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় প্রভাবশালী একটি চক্রের ছত্রছায়ায় দীর্ঘদিন ধরে এ কর্মকাণ্ড চলায় বিস্তীর্ণ এলাকার তিন ফসলি জমি ও পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। এতে শত শত কৃষক তাদের আবাদি জমি ও জীবিকা হারানোর আশঙ্কায় রয়েছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ ও সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা গেছে, ইব্রাহিমপুর ইউনিয়নের সুফিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার দক্ষিণ পাশে মেইন সড়ক সংলগ্ন এলাকায় সরকারি খাস কৃষিজমি দখল করে দুটি ড্রেজার চালানো হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, একটি ড্রেজারের সঙ্গে বিএনপির স্থানীয় নেতা ও সাবেক ইউপি সদস্য আল-আমিনসহ কয়েকজন এবং অপরটির সঙ্গে হারেজ মিয়াসহ কয়েকজন জড়িত। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ড্রেজার মেশিনের মাধ্যমে ফসলি জমির মাটি ও বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে একদিকে কৃষিজমির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে আশপাশের জমিগুলো ধসে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এদিকে বালু ব্যবসার পরিধিও দিন দিন বাড়ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। ইব্রাহিমপুর সুফিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানা সংলগ্ন কাঠের করাত মিলের পাশে এবং বাঁশবাজার বোর্ড অফিস সংলগ্ন নদী এলাকায় প্রায় ১৫টি বড় ট্রলারে নিয়মিত বালু আনা হচ্ছে বলে জানা গেছে। পরে নদী থেকে আনা এসব বালু দিয়ে আশপাশের সরকারি খাস জমি ও মূল্যবান কৃষিজমি ভরাট করা হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, এতিমখানা সংলগ্ন করাত মিলের দুই পাশে ড্রেজার ও ট্রলারের মাধ্যমে খাস জমি ভরাটের কাজ চলছে। নির্বিচারে বালু ফেলার কারণে জমির স্বাভাবিক উর্বরতা ও কৃষি উপযোগিতা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে তিন ফসলি জমির বুক চিরে মাটি ও বালু উত্তোলনের ফলে পার্শ্ববর্তী জমিতে ভাঙন ও ধসের ঝুঁকিও বাড়ছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, কৃষিজমি নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি এ ধরনের কর্মকাণ্ডে এলাকার প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। মাদ্রাসা ও এতিমখানার পাশে ভারী ড্রেজার ও ট্রলারের চলাচল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক পরিবেশ এবং স্থানীয় শান্তিশৃঙ্খলার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, প্রভাবশালী চক্রের ভয়ে অনেকে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছেন না। তাদের দাবি, দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ না হলে এলাকার আরও কৃষিজমি ধ্বংস হয়ে যাবে।
এলাকাবাসীর প্রশ্ন, নদীপথে আসা বিপুলসংখ্যক ট্রলারে পরিবহন করা বালু কোথা থেকে আনা হচ্ছে? এসব বালু কোনো বৈধ বালুমহাল বা বৈধ উৎস থেকে আনা হচ্ছে কি না, নাকি সরকারি ইজারা ছাড়াই মেঘনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আনা হচ্ছে—তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা। ভুক্তভোগী এলাকাবাসী সরকারি খাস জমি ও ফসলি জমি রক্ষায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসকের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। একই সঙ্গে অবৈধ ড্রেজার ও বালুবাহী ট্রলারের কার্যক্রম বন্ধ, সরকারি জমি দখলের অভিযোগ তদন্ত এবং বালু উত্তোলনের বৈধতা যাচাই করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয় সচেতন মহলের প্রত্যাশা, প্রশাসন দ্রুত সরেজমিন তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করবে এবং কৃষিজমি, নদী ও সরকারি খাস জমি রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।



মন্তব্য