![]()
বিশেষ প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার জাউয়া বাজার ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের সাবেক পতন হওয়া সরকারের প্রভাবশালী নেতা ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের অন্যতম দায়িত্বশীল আল মামুন শাহিনের বিরুদ্ধে এক তরুণীকে দীর্ঘদিন ধরে ব্ল্যাকমেইল ও চরম যৌন নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে চলা এই হেনস্তার ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।অসহায়ত্বের সুযোগে দীর্ঘমেয়াদি নির্যাতনস্থানীয় নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী তরুণী (২২) বিয়ের আগে আল মামুন শাহিনের বাড়িতে গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। সেই সময় পরিবারের চরম আর্থিক অসচ্ছলতা ও সামাজিক অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে আল মামুন শাহিন তাকে জোরপূর্বক ও প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার যৌন নির্যাতন করেন বলে অভিযোগ। লোকলজ্জা এবং ওই নেতার রাজনৈতিক ক্ষমতার ভয়ে ভুক্তভোগী তরুণী ও তার পরিবার তখন বিষয়টি প্রকাশ করতে সাহস পায়নি।সংসার ভাঙন ও বর্তমান পরিস্থিতিপরবর্তীতে ওই তরুণীর সাথে এক কুয়েতপ্রবাসী যুবকের বিয়ে হয় এবং বর্তমানে তাদের সাত মাস বয়সী একটি সন্তান রয়েছে। কিন্তু বিয়ের পরও আল মামুন শাহিনের অতীত নির্যাতনের বিষয়টি সামাজিক ও পারিবারিক স্তরে জানাজানি হলে তরুণীর দাম্পত্য জীবনে চরম কলহ সৃষ্টি হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই মাস আগে জাউয়া বাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের প্রত্যক্ষ মধ্যস্থতায় সালিশি বৈঠকের মাধ্যমে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। অভিযোগ উঠেছে, ডিভোর্সের পরও ক্ষান্ত হননি এই আওয়ামী লীগ নেতা। অসহায় তরুণীকে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ও প্রলোভন দেখিয়ে আবারও বাবার বাড়ি থেকে ডেকে এনে হেনস্তা করার চেষ্টা করা হচ্ছে।এলাকাবাসীর দাবি ও ক্ষোভএলাকায় গুঞ্জন রয়েছে যে, রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে আল মামুন শাহিন স্থানীয় আরও বেশ কয়েকজন নারীকে বিভিন্ন সময়ে ব্ল্যাকমেইল ও যৌন নির্যাতন করেছেন। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বর্তমানে এই নেতা এলাকা ছেড়ে পলাতক রয়েছেন।স্থানীয় সচেতন মহল ও এলাকাবাসী অবিলম্বে এই কথিত অপরাধীর বিরুদ্ধে একটি নিরপেক্ষ ও স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠনের জোর দাবি জানিয়েছেন। একই সাথে ভুক্তভোগী নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করে পলাতক আওয়ামী লীগ ক্যাডার আল মামুন শাহিনকে দ্রুত গ্রেফতারের জন্য প্রশাসনের প্রতি আকুল আবেদন জানানো হয়েছে।



মন্তব্য