রবিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৬
 

গোয়ালন্দে দেড় বছর ধরে অসম্পূর্ণ সড়ক, ঠিকাদারের চুক্তি বাতিলের সুপারিশ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ আগস্ট ২০২৬

 ---

শাকিল মোল্লা,রাজবাড়ী প্রতিনিধি:
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের ফকিরপাড়া এলাকায় গুরুত্বপূর্ণ একটি রাস্তার কাজ দীর্ঘদিন ধরে ফেলে রেখেছেন ঠিকাদার। উপজেলা প্রকৌশল কার্যালয় হতে অন্তত ৮/১০ বার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দিয়েও রাস্তার অবশিষ্ট কাজ করানো যাচ্ছে না।এমতাবস্থায় সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স জাকাউল্লা এন্ড ব্রাদার্সের চুক্তি বাতিলের জন্য রাজবাড়ীর স্হানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে সুপারিশ করেছেন উপজেলা প্রকৌশলী।

জানা গেছে, দৌলতদিয়া ইউনিয়ন হেড কোয়ার্টার থেকে উজানচর জিসি ভায়া ফকির পাড়া সড়কটির দৈর্ঘ্য ২ হাজার ৬৮৫ মিটার বা ২. ৬৮৫ কিলোমিটার। এইচবিবি সড়ক পুনর্গঠন করে কার্পেটিং এই কাজের চুক্তি মূল্য ২ কোটি ৩৭ লক্ষ ৪৭ হাজার ২৫৪ টাকা।
কাজটির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবন নগর উপজেলার মেসার্স জাকাউল্লা এন্ড ট্রেডার্স। ক্তি অনুযায়ী কাজটি শুরু হয় ২০২৪ সালের ১৮ অক্টোবর। শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৫ সালের ১৬ মে তারিখে।
উপজেলা প্রকৌশল কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী কাজটির ৬৫ ভাগ সম্পন্ন করা হয়েছে। বিল প্রদান করা হয়েছে ৫০ শতাংশ।কিন্তু বিগত প্রায় দেড় বছর ধরে কাজটি অসম্পূর্ণ অবস্থায় ফেলে রাখা হয়েছে। প্রয়োজনীয় স্হানগুলোতে গাইড ওয়াল ও কার্পেটিংয়ের কাজ না হওয়ায় ভারি বৃষ্টিতে বারবার বিভিন্ন স্হানে ভেঙে যাচ্ছে। এতে যানবাহন চলাচল চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

স্হানীয় বাসিন্দা নাজিম উদ্দিন ফকির,আফতার শেখ,খবির সরদারসহ কয়েকজন জানান, আমরা রাস্তাটা নিয়ে চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছি। ঠিকাদারকে বারবার বললেও তিনি কাজ সম্পন্ন করছেন না। বিটুমিনের দাম বৃদ্ধির অজুহাত দেন। কিন্তু কাজটি যে সময়ের তখন তো বিটুমিনের দাম কম ছিল। মাঝেমধ্যেই বৃষ্টিতে রাস্তাটা ভেঙে যাচ্ছে। অনেক অনুরোধের পর কিছু বালু ফেলে ঠিকঠাক করে। এভাবেই চলছে প্রায় দেড় বছর। রাস্তাটির অবশিষ্ট কাজ দ্রুত শেষ করা দরকার।  ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানেের স্হানীয় প্রতিনিধি সালাউদ্দিন চৌধুরী জানান, কাজটি যখন শুরু করেছিলাম তখন ব্যারেল প্রতি বিটুমিনের দাম ছিল ১০ হাজার টাকার মতো। বর্তমানে দাম বেড়ে দাড়িয়েছে ১৮ হাজার টাকার অধিক। তাই কাজ করছিনা। প্রকৌশল অফিস হতে বারবার চিঠি দিয়েছে। তাদের সাথে কথা বলে দেখি কি করা যায়!গোয়ালন্দ উপজেলা প্রকৌশলী ফয়সাল জাহাঙ্গীর স্বপ্নিল বলেন, রাস্তার কাজটি যথাসময়ে শেষ না হওয়ায় জনসাধারণের চলাচলে ভোগান্তি হচ্ছে। আমি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে অন্তত ৮/১০ বার চিঠি দিয়ে দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য তাগিদ দিয়েছি। কিন্তু তাতে তারা কোনই গুরুত্ব দেয়নি। তাই বাধ্য হয়ে কাজটির চুক্তি বাতিলের জন্য নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে পত্র দিয়েছি।রাজবাড়ীর স্হানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান  জানান, বিষয়টি নিয়ে উপজেলা প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সাথে কথা বলে দুই/একদিনের মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেব। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যদি জনস্বার্থকে এভাবে বারবার অবজ্ঞা করতেই থাকে তাহলে চুক্তি বাতিল করে অবশিষ্ট কাজের জন্য রি-টেন্ডার দেব।

মন্তব্য

সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর

Developed By: Dotsilicon