![]()
লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধি:
নাটোরের লালপুর উপজেলার আব্দুলপুর সরকারি কলেজে এইচএসসি-২০২৬ পরীক্ষার ফরম পূরণ সংক্রান্ত প্রতারণার ঘটনায় ভুক্তভোগী ৮ শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি। লিখিত পরীক্ষার অধিকাংশ শেষ হলেও প্রথম পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারার ক্ষত তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে দুশ্চিন্তা তৈরি করেছে।
গত মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিজ্ঞান বিভাগের উচ্চতর গণিত পরীক্ষা শেষে একাধিক অভিভাবক উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাদেরই একজন মো. ইমামুল হক বলেন, “আমার সন্তানের লিখিত পরীক্ষা শেষ হয়েছে। কিন্তু কলেজের এক কর্মচারীর জালিয়াতির কারণে সে প্রথম পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি। পরবর্তীতে বিশেষ ব্যবস্থায় বাকি পরীক্ষাগুলো দিতে পারলেও প্রথম পরীক্ষার বিষয়ে এখনো কোনো পরিষ্কার সিদ্ধান্ত পাইনি। এতে আমরা চরম অনিশ্চয়তায় আছি।”
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের ৮ শিক্ষার্থী সার্ভার জটিলতার কারণে নির্ধারিত সময়ে ফরম পূরণ করতে পারেননি। পরে ১২ মার্চ বিলম্ব ফিসহ ফরম পূরণের জন্য কলেজে গেলে গ্রন্থাগারের অফিস সহায়ক অমিত কুমার সরকার তাদের কাছ থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা করে নিয়ে ফরম পূরণের আশ্বাস দেন। কিন্তু বাস্তবে কারো ফরমই পূরণ করা হয়নি। ফলে প্রবেশপত্র না থাকায় ৩ জুলাই অনুষ্ঠিত বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষায় তারা অংশ নিতে পারেননি।
বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশ পেলে শিক্ষামন্ত্রীর হস্তক্ষেপে বিশেষ ব্যবস্থায় ওই শিক্ষার্থীদের ফরম পূরণ করে প্রবেশপত্র দেওয়া হয়। এরপর তারা দ্বিতীয় পরীক্ষা থেকে অংশগ্রহণ করতে পারলেও প্রথম পরীক্ষার বিষয়টি এখনো অমীমাংশিত রয়ে গেছে।
এ বিষয়ে আব্দুলপুর সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. মামদুদুর রহমান জানান, বিষয়টি নিয়ে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হলে শিক্ষার্থীদের জানানো হবে।
রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. শামীম আরা চৌধুরী বলেন, “এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের জন্য একাধিক বিকল্প বিবেচনায় রয়েছে। তাদের তালিকা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে এবং সেখান থেকেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে।”
এদিকে প্রতারণার ঘটনায় অভিযুক্ত কর্মচারীর বিরুদ্ধে তদন্ত করে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।
সবমিলিয়ে, পরীক্ষা শেষের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়েও প্রথম পরীক্ষার অনিশ্চয়তা ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের মাঝে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। এখন সবার দৃষ্টি কেন্দ্রীভূত সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে।



মন্তব্য