শনিবার, ১ আগস্ট ২০২৬
 

দুই সাব-রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১ আগস্ট ২০২৬

---
রেজাউল করীম মজুমদার, গাজীপুর:

গাজীপুর জেলা রেজিস্ট্রার মোঃ মিজানুর রহমান এবং সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সাব-রেজিস্ট্রার আব্দুল বাতেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, দলিল প্রতি অফিস খরচের নামে নির্ধারিত কমিশন আদায় ছাড়াও রেজিস্ট্রি অফিসের একশ্রেণির চিহ্নিত দালালদের সহায়তায় তিনি জমির শ্রেণি জালিয়াতি করে সরকারের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছেন।
গাজীপুর জেলা ও সদর সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে ঘুষ বাণিজ্য, অতিরিক্ত ফি আদায় ও দুর্নীতির আখড়া গড়ে ওঠার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে দুর্নীতি প্রমাণ মিলেছে। এছাড়া বেশি মূল্যে রেজিস্ট্রি করা বায়না দলিল গোপন করে পরবর্তীতে কমমূল্যে সাব-কবলা দলিল করে চুক্তিবদ্ধ মোটা অঙ্কের ঘুস নিয়েছেন।
দলিল দাতা বা গ্রহীতার আয়কর সংক্রান্ত টিআইএন বা টিনের রিটার্ন না থাকলে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা করে নেয়। হেবা দলিলে জমির পরিমাণ ১০ শতাংশ পর্যন্ত ১০ হাজার টাকা ও ১০ শতাংশের বেশি হলে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা নেওয়া হয়। বিভিন্ন কোম্পানির ব্যাংক মর্টগেজ দলিলে ঋণের পরিমাণ অনুযায়ী নেয় ১ লক্ষ টাকা থেকে ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত। বণ্টননামা দলিলে ৪ লক্ষ টাকা থেকে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়। ভুল সংশোধন ও ঘোষণাপত্র দলিলে নেওয়া হয় ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় তার শক্ত খুঁটি ছিল আইন মন্ত্রণালয়ে। এছাড়া কয়েকজন প্রভাবশালী সাব-রেজিস্ট্রার তার নেপথ্যের গডফাদার হিসাবে পরিচিত। এই চক্রের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে ওমেদার সোহেল, কাশেম, রিপন ও রাব্বির নাম উঠে এসেছে, যারা সাবেক সাব-রেজিস্ট্রার মনিরুল ইসলামের সময় থেকে নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন।
বালাম বই থেকে নকল বা সার্টিফাইড কপি তুলতে সরকারি ফির বাইরে অতিরিক্ত ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা উৎকোচ দিতে বাধ্য করা হয়। টাকা না দিলে ফাইল আটকে রাখা হয়। মারিয়ালীতে রেকর্ড রুম স্থানান্তরকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট দ্বন্দ্বে গত ৬ সেপ্টেম্বর থেকে জেলা ও সদরের নকলের কার্যক্রম মৌখিকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে, যা জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।

 

 

 

  • প্রভাবশালী রেজিস্ট্রার নেপথ্যের গডফাদার
  • ব্যাপক হারে ঘুষ বাণিজ্য কর্মকর্তা ও কর্মচারী
  • জামাই সোহেল দালাল সিন্ডিকেটের প্রধান গডফাদার
  • গ্রাহকদের ফাইল আটকে রেখে টাকা আদায়
  • কর্মকর্তার ঘুষ বাণিজ্যর দিকনির্দেশনায় কর্মচারীর উঠাবসা
  • আইন মন্ত্রণালয়ের তদারকি খুব জরুরী
  • রেজাউল করিম মজুমদার, গাজীপুর

গাজীপুরের সাব-রেজিস্ট্রি অফিসগুলোতে (সদর, সালনাসহ বিভিন্ন উপ-কার্যালয়) জমির দলিল করতে আসা সাধারণ নাগরিকদের পকেট কাটছে একটি শক্তিশালী অঘোষিত সিন্ডিকেট। টিআইএন (TIN) সার্টিফিকেটের অজুহাত, দলিলের ছোটখাটো ভুলত্রুটি ধরা বা জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে কোটি কোটি টাকার সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অভিযানে এই অফিসে প্রায় ১৩ কোটি টাকার বড় ধরনের অডিট আপত্তি ও নথিপত্রে ব্যাপক অসঙ্গতি ধরা পড়েছে। মোঃ মনিরুল ইসলাম সাবেক সাব-রেজিস্ট্রার, যার বিরুদ্ধে কম মূল্যে জমি রেজিস্ট্রি দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে এবং দুদক মামলা ও হাইকোর্টের তদন্তের মুখে পড়েছেন ধাকাকাওয়েভ।

জাহাঙ্গীর আলম সদর সাবেক যুগ্ম সাব-রেজিস্ট্রার, যার বিরুদ্ধে অফিসের সিন্ডিকেট ও অনিয়ম প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ওমেদার চক্র (সোহেল, কাশেম, রিপন ও রাব্বি) সরাসরি খাস কামরা নিয়ন্ত্রণ ও সাধারণ সেবাগ্রহীতাদের জিম্মি করে টাকা আদায়কারী প্রভাবশালী কর্মী।
ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষের দাবি, এই সিন্ডিকেটের হাত থেকে রক্ষা পেতে ডিজিটাল ফাইলিং ও দলিলের স্বচ্ছ ফি কাঠামো নিশ্চিত করাসহ ঊর্ধ্বতন কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
গাজীপুর সদর সাব-রেজিস্ট্রার আব্দুল বাতেনকে একাধিকবার কল দিয়েও পাওয়া যায়নি। বারবার কল কেটে দেওয়া হয়। তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
গাজীপুর জেলা রেজিস্ট্রার মোঃ মিজানুর রহমানের সহকারি কল রিসিভ করে বলে, স্যার ব্যস্ত আছে, আপনাকে কল দিয়ে ধরিয়ে দিব, তারপর স্যারের সাথে কথা বইলেন, তারপর একাধিকবার কল দিয়েও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

মন্তব্য

সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর

Developed By: Dotsilicon