শনিবার, ১ আগস্ট ২০২৬
 

ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে কাঁঠালিয়া উপজেলা ডাকঘরের কার্যক্রম, যেকোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১ আগস্ট ২০২৬

---

কাঁঠালিয়া (ঝালকাঠি) সংবাদদাতা 
ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলা সদরের প্রধান ডাকঘর ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। সংস্কারের অভাবে ভবনের ছাদ ও দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়ছে, বিভিন্ন স্থানে রড বেরিয়ে এসেছে। বর্ষা মৌসুমে ছাদ চুইয়ে পানি পড়ায় নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথিপত্রের। জীবনের ঝুঁকি নিয়েই প্রতিদিন দায়িত্ব পালন করছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। ফলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জানা গেছে, ১৯৯২ সালে নির্মিত ভবনটি নিম্নমানের নির্মাণ কাজের কারণে অল্প সময়ের মধ্যেই জরাজীর্ণ হয়ে পড়ে। পরে একবার সংস্কার করা হলেও তা ছিল দায়সারা। ফলে ভবনের অবস্থার তেমন কোনো উন্নতি হয়নি। বর্ষা মৌসুমে ভবনটির ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।

সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ডাকঘরের সামনের পুরো প্রাঙ্গণ হাঁটুপানি। বাইরে বৃষ্টি হলেই ভবনের ভেতরেও ছাদ চুইয়ে অবিরাম পানি পড়ছে। টেবিলে রাখা সরকারি নথিপত্র ভিজে যাচ্ছে, মেঝেতে পানি জমে কর্দমাক্ত পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। এমন অবস্থায় পানির মধ্যেই বসে সরকারি দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায় পোস্টমাস্টারকে। দীর্ঘদিনের ব্যবহারে নষ্ট হয়ে যাওয়া আসবাবপত্রও প্রায় ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

ডাকঘরে সেবা নিতে আসা একাধিক ব্যক্তি জানান, “চিঠিপত্র পাঠাতে মাঝে মধ্যে ডাকঘরে আসতে হয়। কিন্তু বৃষ্টির সময় অফিসের ভেতর-বাইরে পানি জমে যায়। ছাদ থেকে পানি পড়তে থাকে। কর্মকর্তারা মাথায় পলিথিন দিয়ে কাজ করেন। এমন ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে অফিস পরিচালনা অত্যন্ত কষ্টকর। দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ অথবা সংস্কার করা প্রয়োজন।”

পোস্ট মাস্টার মো. দ্বীন ইসলাম বলেন, “বর্ষা এলেই আতঙ্কে থাকতে হয়। কখন ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে, আবার কখন পুরো ভবন ধসে পড়ে—সেই শঙ্কা নিয়েই দায়িত্ব পালন করছি।”

কাঁঠালিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মকবুল হোসেন বলেন, “জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে ভবনটি সংস্কার অথবা নতুন ভবন নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় চিঠি পাঠানো হবে। আশা করছি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি বিভিন্ন দপ্তর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যাংক-বীমাসহ নানা প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ চিঠিপত্র আদান-প্রদানে এখনও ডাক বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। অথচ উপজেলার প্রধান ডাকঘরটি বছরের পর বছর ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পরিচালিত হচ্ছে। এতে একদিকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়ছে, অন্যদিকে চরম দুর্ভোগে পড়ছেন সেবাগ্রহীতারা। তাই অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা এড়াতে দ্রুত ভবনটি সংস্কার অথবা নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

মন্তব্য

সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর

Developed By: Dotsilicon