সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
 

প্লাস্টিকের বাজারে হিমসিম খাচ্ছে মাটির হাঁড়ি-পাতিল: সংকটে চাঁপাইনবাবগঞ্জের মৃৎশিল্পীরা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ জুলাই ২০২৬

---
মোঃ হেলাল উদ্দীন, নাচোল (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার বারঘরিয়া এলাকার ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প এখন বিলুপ্তির পথে। প্লাস্টিক ও অ্যালুমিনিয়ামের সহজলভ্যতা, আধুনিকতার ছোঁয়া এবং প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে মাটির তৈরি হাড়ি, ঢাকুন, খোলাসহ বিভিন্ন সামগ্রী তৈরির সেই সোনালী জৌলুস ও ঐতিহ্য এখন আর নেই।
একসময় মাটির তৈরি হাড়ি, ঢাকুন, খোলা, পিঠা তৈরির পাত্র, কলসসহ নিত্য প্রয়োজনীয় তৈজসপত্র ছাড়া গ্রামাঞ্চলের হেঁসেলের কথা চিন্তাই করা যেত না। কিন্তু কালের বিবর্তনে ও আধুনিক যুগের প্লাস্টিক, মেলামাইন ও অ্যালুমিনিয়ামের দাপটে হারিয়ে যেতে বসেছে মাটির তৈরি সেই তৈজসপত্রের কদর।

নাচোল হাটের মৃৎশিল্পের দোকানগুলো ঘুরে দেখা যায় এক নিদারুণ চিত্র।  সারি সারি মাটির হাড়ি-পাতিল ও তৈজসপত্র সাজিয়ে বসে আছেন বিক্রেতারা। কিন্তু সময় গড়িয়ে গেলেও ক্রেতার দেখা কাঙ্খিতভাবে মিলছে না। আধুনিক যুগে মাটির হাঁড়িতে রান্না করার আগ্রহ কমে যাওয়ায় দোকানগুলোতে এখন অলস সময় কাটাচ্ছেন বিক্রেতারা।
বারঘরিয়ার কুমোর পাড়ার পরবি পাল বলেন, “স্টিলের হাড়ি পাতিল বাজারে আশায় আমাদের মৃৎশিল্পের কাজ অনেকটা কমে গেছে। এখন আমরা অনেক কষ্টে জীবিকা নির্বাহ করছি।”   নাচোল হাটে হাঁড়ি বিক্রেতা সুরেন চন্দ্র পাল বলেন, একসময় মাটির হাড়ি- পাতিল বিক্রি করে চলত তাদের সংসার।কিন্তু বর্তমানে বাজারে মাটির পণ্যের চাহিদা তলা নিতে ঠেকেছে। মাটির জিনিসপত্র তৈরির প্রধান কাঁচামাল এঁটেল মাটির দাম বৃদ্ধি এবং উৎপাদন খরচ তুলতে না পারায় অনেক কুমার পরিবার বাধ্য হয়ে বাপ-দাদার এই ঐতিহ্যবাহী পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় চলে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। একই সাথে বিক্রেতারাও তাদের বিকল্প ব্যবসা বা পেশা খুঁজে নিচ্ছেন।
যদিও দৈনন্দিন ব্যবহার্য পণ্যের বাজার হারিয়েছে তবুও সৌখিন ও শোভাবর্ধক এই মৃৎশিল্পের এখনো অনেক চাহিদা রয়েছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। তবে এই শিল্পটিকে টিকিয়ে রাখতে হলে সহজ শর্তে ঋণ প্রদান, কারিগরদের উন্নত প্রশিক্ষণ, মেলা ও প্রদর্শনীর মাধ্যমে মৃৎশিল্পের বাজার সম্প্রসারণ করা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন তারা।

মন্তব্য

সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর

Developed By: Dotsilicon