![]()
মোঃজসিম উদ্দিন, সৌদি আরব প্রতিনিধি
একটি সুন্দর ও সচ্ছল ভবিষ্যতের আশায় বুক বেঁধে প্রবাসের মাটিতে পাড়ি জমিয়েছিলেন দুই ভাই। পরিবারের মুখে একটুখানি হাসি ফোটানো আর অভাবের সংসারকে টেনে তোলার আকুল ইচ্ছা ছিল তাদের চোখে-মুখে। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাসে প্রবাসের মাটিতে এক ভয়াবহ ও হৃদয়বিদারক সড়ক দুর্ঘটনা কেড়ে নিল সেই দুটি তাজা প্রাণ। লক্ষ্মীপুরের দুই আপন ভাইয়ের এমন অকাল ও আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া, আর তাদের পরিবার এখন শোকে সম্পূর্ণ পাথর।
নিয়তির নির্মম পরিহাস ও দুর্ঘটনা
নিহতদের পরিচয়: নিহতরা হলেন সজীব ও সুজন। তারা লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়নের বাসিন্দা ছিলেন। দুই ভাই একসাথে প্রবাসে গিয়ে একে অপরের সুখ-দুঃখের সঙ্গী হিসেবে কাজ করছিলেন।
দুর্ঘটনার সময় ও স্থান: গত বুধবার দিবাগত রাতে সৌদি আরবের দাম্মাম নামক স্থানে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে।
কী ঘটেছিল: প্রতিদিনের মতো কাজ শেষে দুই ভাই একটি খেজুর বোঝাই গাড়ি নিয়ে বাগান থেকে ফিরছিলেন। ফেরার পথে হঠাৎ গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে এবং রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি বড় লরির পেছনে অত্যন্ত সজোরে ধাক্কা দেয়। ধাক্কাটি এতটাই প্রচণ্ড ছিল যে, গাড়িটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই দুই ভাই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
ঋণের পাহাড় ও পরিবারের কান্না
বড় অঙ্কের ঋণ: মধ্যবিত্ত এই পরিবারটির অভাব দূর করতে এবং সন্তানদের একটা ভালো কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে ধার-দেনা ও বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রায় ২০ লাখ টাকা ঋণ করা হয়েছিল। সেই বিশাল ঋণের বোঝা মাথায় নিয়েই তারা সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন।
স্বপ্নভঙ্গের বেদনা: ভেবেছিলেন কঠোর পরিশ্রম করে দ্রুতই ঋণের টাকা শোধ করে দেবেন এবং পরিবারের সুদিন ফিরিয়ে আনবেন। কিন্তু উপার্জনের মূল দুই চালিকাশক্তিকে একসঙ্গে হারিয়ে পরিবারের সব স্বপ্ন এক নিমেষেই ধূলিসাৎ হয়ে গেল।
দিশেহারা স্বজনরা: ঋণের এই বিশাল পাহাড় এখন কীভাবে শোধ হবে এবং দুই সন্তানকে হারিয়ে বৃদ্ধ বাবা-মা কীভাবে বাকি জীবন পার করবেন, সেই চিন্তায় পুরো পরিবারটি এখন সম্পূর্ণ দিশেহারা ও নিঃস্ব। বাড়িতে এখন শুধুই স্বজনদের আহাজারি আর কান্নার রোল।



মন্তব্য