![]()
পাথরঘাটা (বরগুনা) প্রতিনিধি
বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলায় নদীভাঙন, জলোচ্ছ্বাস এবং ঘনঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে উপকূলীয় জনপদকে রক্ষায় টেকসই ও স্থায়ী বেরিবাঁধ নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকাল ১০টায় উপজেলার সদর ইউনিয়নের পাঁচচুঙ্গা এলাকার ভাঙা বেরিবাঁধের ওপর এ মানববন্ধনের আয়োজন করে ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা), পাথরঘাটা উপকূল সুরক্ষা আন্দোলন ও সুন্দরবন জনতা ক্লাব। ত্রাণ নয়, স্থায়ী সমাধান চাই—এই স্লোগানে কয়েক শতাধিক গ্রামবাসী, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা, সাংবাদিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ কর্মসূচিতে অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, জিনতলা থেকে বাদুরতলা পর্যন্ত বিস্তীর্ণ উপকূলীয় এলাকা দীর্ঘদিন ধরে নদীভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। বিশেষ করে পদ্মা ভাঙন এলাকা ও রুহিতা গ্রামের হাজারো মানুষ প্রতিনিয়ত আতঙ্কের মধ্যে বসবাস করছেন। ২০০৭ সালের প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় সিডারের পর ক্ষতিগ্রস্ত বেরিবাঁধগুলোর স্থায়ী পুনর্নির্মাণ না হওয়ায় দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিভিন্ন সময়ে বালুর বস্তা ফেলে অস্থায়ীভাবে বেরিবাঁধ সংস্কারের চেষ্টা করা হলেও তা কোনো দীর্ঘমেয়াদি সমাধান দিতে পারেনি। এতে বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ ব্যয় হলেও সামান্য জোয়ার বা দুর্যোগেই বাঁধ ভেঙে লবণাক্ত পানি লোকালয়ে ও ফসলি জমিতে ঢুকে পড়ে। ফলে কৃষি, জনজীবন এবং স্থানীয় অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, সিডরের পর থেকে অব্যাহত নদীভাঙনে ইতোমধ্যে কয়েক হাজার মানুষ ভূমিহীন হয়ে পড়েছেন। অনেক পরিবার এখনো ভাঙা বেরিবাঁধের ওপর পলিথিন টাঙিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। নিরাপদ আশ্রয় ও জীবিকার অভাবে তাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন পাথরঘাটা সদর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সগীর আলম, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সহ-সভাপতি মো. মাহাবুর রহমান সুমন মোল্লা, সমাজসেবক নজরুল ইসলাম ফারুক, উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক চৌধুরী মো. ফারুক, স্থানীয় ইউপি সদস্য, গণ্যমান্য ব্যক্তি, সাংবাদিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সগীর আলম বলেন, আমরা যে বেরিবাঁধের ওপর দাঁড়িয়ে আছি, সেটি যেকোনো সময় ভেঙে যেতে পারে। ইতোমধ্যে ইউনিয়নের চার থেকে পাঁচটি স্থান অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসতে পারে।
মো. মাহাবুর রহমান সুমন মোল্লা বলেন, “আমরা সাময়িক নয়, টেকসই সমাধান চাই। শুধু মাটি বা বালুর বস্তা নয়, ব্লক বসিয়ে স্থায়ী বেরিবাঁধ নির্মাণ করতে হবে। তা না হলে তিন কিলোমিটার এই বেরিবাঁধ হয়তো আগামী ১৫ দিনের মধ্যেই বিলীন হয়ে যেতে পারে।
উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক চৌধুরী মো. ফারুক বলেন, বলেশ্বর নদ ও বঙ্গোপসাগরের মোহনায় অবস্থিত এই এলাকা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এখানকার মানুষ বছরের পর বছর আতঙ্ক নিয়ে বসবাস করছে। দীর্ঘদিনেও স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় মানুষ হতাশ হয়ে পড়েছিল। তবে বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ আলহাজ নুরুল ইসলাম মনির উদ্যোগে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধানের আশা জেগেছে।”
মানববন্ধন থেকে এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দ্রুত টেকসই ও স্থায়ী বেরিবাঁধ নির্মাণের জোর দাবি জানান। তাদের ভাষ্য, প্রতিটি দুর্যোগের পর সাময়িক ত্রাণ নয়—উপকূলবাসীর জন্য নিরাপদ ও স্থায়ী বসবাসের নিশ্চয়তাই এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।



মন্তব্য