![]()
এনামুল কবির মুন্না, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
টানা ভারী বর্ষণ আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জের বন্যা পরিস্থিতির অবণতি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে সুরমা, কুশিয়ারা, যাদুকাটা, পাটলাই, রক্তি ও চেলা,খাসিয়ামারাসহ জেলার ছোট-বড় সবকটি নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইতিমধ্যেই নদীর তীরবর্তী নিচু এলাকা ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে শুরু করেছে। ফলে নদী তীরবর্তী ও হাওরাঞ্চলের লাখো মানুষের মধ্যে নতুন করে বন্যা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, ভারতের মেঘালয় ও চেরাপুঞ্জিতে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে উজান থেকে তীব্র বেগে ঢল নেমে আসছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে স্থানীয়ভাবে হওয়া রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত। ফলে সুনামগঞ্জ সদর, তাহিরপুর, বিশ্বম্ভরপুর, দোয়ারাবাজার ও ছাতক উপজেলার বেশ কিছু নিম্নাঞ্চলের রাস্তাঘাট ও বাড়িঘরে পানি উঠতে শুরু করেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় সুনামগঞ্জে চলতি বছরের সর্বোচ্চ ২৬৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা এই মৌসুমের মধ্যে এক দিনে সর্বোচ্চ। ঢলের তোড়ে শহরের ষোলঘর পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় ৫১ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। সুরমা নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার কিছুটা নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও যেকোনো সময় তা বিপৎসীমা পেরিয়ে যেতে পারে।
তবে কুশিয়ারা নদীর পানি ইতিমধ্যেই বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। পাউবোর সর্বশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, কুশিয়ারা নদীর মারকুলি পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ১১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর ফলে জগন্নাথপুর ও দিরাই উপজেলার নদী তীরবর্তী বেশ কিছু গ্রাম প্লাবিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সতর্কবার্তা দিয়ে জানিয়েছে, আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সুনামগঞ্জ ও উজানের ভারতীয় অংশে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। এর ফলে জেলার প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি আরও দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমা অতিক্রম করবে। নদীর পানি উপচে আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে জেলার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চলে একটি সাময়িক বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।
এদিকে টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢল অব্যাহত থাকায় চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে নিচু এলাকার বাসিন্দাদের। তাহিরপুর ও দোয়ারাবাজার এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা জানান, নদীর পানি যেভাবে বাড়ছে, তাতে ঘরে পানি ঢুকতে বেশি সময় লাগবে না। কাঁচা ঘরবাড়ি, গবাদিপশু এবং আমন ধানের বীজতলা নিয়ে চরম উদ্বেগের মধ্যে আছেন তারা।
পরিস্থিতি সম্পর্কে সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বিভাগ-২) নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ এমদাদুল হক বলেন, “উজানের ঢল ও স্থানীয় রেকর্ড বৃষ্টির কারণে নদীগুলোর পানি দ্রুত বাড়ছে। কুশিয়ারা নদীর পানি ইতিমধ্যেই বিপৎসীমার ওপরে। আমরা সার্বিক পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছি এবং সকল পয়েন্টের পানি বৃদ্ধির ওপর নজর রাখা হচ্ছে। আগামী ৭২ ঘণ্টা আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
স্থানীয় জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কন্ট্রোল রুম খোলার প্রস্তুতি চলছে। নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি আশ্রয়কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।



মন্তব্য