রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬
 

জাকসু নির্বাচনে অবৈধভাবে ছাত্রী হলে প্রবেশ, নিজেকে পর্যবেক্ষক দাবি করলেন জাবি অধ্যাপক

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫

---

জাবি প্রতিনিধি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ নির্বাচনের দিন নিজেকে পর্যবেক্ষক (নির্বাচন মনিটরিং টিমের সদস্য) দাবি করে ছাত্রী হলে প্রবেশ করেছিলেন গণিত বিভাগের অধ্যাপক নজরুল ইসলাম। তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তিনি মনিটরিং টিমের সদস্য নন এবং নিজেকে মনিটরিং টিমের সদস্য হিসেবে মিথ্যা দাবি করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হলে একজন অধ্যাপকের অনুমতিবিহীন এমন প্রবেশে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন হলটির শিক্ষার্থীরাও।

জানা যায়, জাকসু নির্বাচনের দিন নির্বাচন মনিটরিংয়ের জন্য ২১ সদস্যের একটি টিম ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। এই কমিশনের কাজ ছিলো আবাসিক হলগুলোতে নির্বাচন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে কমিশনকে জানানো। সেদিন নির্বাচন চলাকালে ১৫ নং ছাত্রী হল পর্যবেক্ষণে যান বিএনপিপন্থী শিক্ষক ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক নাহরিন খান। ওই কেন্দ্রে ভোটারদের হাতে দেয়া মার্কারের কালি উঠে যাচ্ছে এমন অভিযোগ তুলে বিধি না মেনে তিনি প্রায় দেড় ঘন্টা ভোটগ্রহণ বন্ধ করে রাখেন। এই সুযোগে ভোট কারচুপি হচ্ছে এমন দাবি তুলে গণিত বিভাগের অধ্যাপক নজরুল ইসলাম দলবল নিয়ে অনুমতি ছাড়া ওই ছাত্রী হলে প্রবেশ করেন। কেন্দ্রে প্রবেশ করেই সেখানে তিনি অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করেন।

এছাড়া হলের ফটকে দায়িত্বরত নিরাপত্তা কর্মীরা অধ্যাপক নজরুল ইসলামকে আটকানোর চেষ্টা করলেও তিনি জোর করে ভোট কেন্দ্রে ঢুকে পড়েন। এক পর্যায়ে ভোট কেন্দ্রের ভেতরে সাংবাদিকরা তার পরিচয় জানতে চাইলে তিনি নিজেকে নির্বাচন মনিটরিং টিমের সদস্য দাবি করেন। তবে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক প্রদান করা মনিটরিং টিমের তালিকায় তার নাম নেই।

নির্বাচন কমিশন জানায়, নির্বাচনের দিন ২১ সদস্যের একটি মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছিল। সেই তালিকায় অধ্যাপক নজরুল ইসলাম নেই। কারণ তিনি নিজেই একটি হলের প্রভোস্ট।

অপরদিকে, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হলে প্রবেশের ক্ষেত্রে কিছু রীতি রয়েছে। হলের অভ্যন্তরে কোনো পুরুষ প্রবেশ করতে হলে হল কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হয়। এছাড়া নির্বাচন চলাকালে মনিটরিং টিমের সদস্য ব্যতীত এক হলের প্রভোস্ট অন্য হলে যাওয়ার নিয়ম নেই। তবে অধ্যাপক নজরুল ইসলাম সেই নিয়ম ভঙ্গ করেছেন।

টিমের সদস্য না হয়েও নিজেকে মনিটরিং টিমের সদস্য দাবি ও অনুমতি ছাড়া নিজ হল ব্যতীত অন্য ছাত্রী হলে প্রবেশের কারণ জানতে চেয়ে অধ্যাপক নজরুল ইসলামের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয়। তবে তিনি প্রশ্ন শোনার পর মিটিংয়ে আছি বলে ফোন কল কেটে দেন।

বিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনের সদস্য সচিব অধ্যাপক রাশিদুল আলম বলেন, নির্বাচন কমিশনের অনুমতি ব্যতিত কেউ প্রবেশ করতে পারবেন না। ছাত্রী হলগুলোতে প্রবেশের জন্য নির্বাচন কমিশন নিজেও হল কেন্দ্রের রিটার্নিং কর্মকর্তার অনুমতি নিয়েছেন।

মন্তব্য

সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর

Developed By: Dotsilicon