বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
 

জবি ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্বের আলোচনায় শীর্ষে রুমি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ মার্চ ২০২৬

---

আশিকুর রহমান, জবি প্রতিনিধি

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল–এর নতুন নেতৃত্ব গঠনের আলোচনায় শীর্ষে উঠে এসেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক প্রচার সম্পাদক ও বর্তমান ২ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মোস্তাফিজুর রহমান (রুমি)-এর নাম। দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনের বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখায় তাকে সম্ভাব্য নেতৃত্বের তালিকায় দেখা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

 

দলীয় সূত্র জানায়, ছাত্ররাজনীতির শুরু থেকেই আপোষহীন ভূমিকা রাখার কারণে ক্যাম্পাসসহ বিভিন্ন স্থানে একাধিকবার হামলার শিকার হয়েছেন রুমি। তার বিরুদ্ধে ১৫টির বেশি মামলা রয়েছে। এছাড়া তিনি ৬ বার গ্রেফতার হয়েছেন এবং বিভিন্ন সময়ে মোট ২১৭ দিন কারাভোগ করেছেন।

 

২০১১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকা মহানগরের সূত্রাপুর থানায় প্রথম গ্রেফতার হন তিনি। পরে ২০১৪ সালের ৩ অক্টোবর কেরানীগঞ্জের দক্ষিণ ইকুরিয়া এলাকায় তাকে আবারও গ্রেফতার করা হয়।

 

২০১৮ সালের ১০ সেপ্টেম্বর খালেদা জিয়া–র মুক্তির দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধন থেকে রমনা থানার পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। একই বছরের ৩০ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগের দিন দলীয় কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে নিজ ক্যাম্পাসের সামনে থেকে তাকে আটক করা হয় বলে তিনি দাবি করেন।

 

এছাড়া ২০২১ সালের ৫ মে জিয়াউর রহমান–এর ৪০তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে ঘোষিত কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে কোতোয়ালি থানার পুলিশ তাকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে গ্রেফতার করে। একই বছরের ২৩ আগস্ট ডিবি পুলিশের হেফাজতে একদিন ও থানায় দুইদিন রিমান্ড শেষে তিনটি মামলায় তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। ওই ঘটনায় তিনি প্রায় ৫০ দিন কারাভোগ করেন।

 

এ বিষয়ে মো. মোস্তাফিজুর রহমান (রুমি) বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর থেকেই তিনি ছাত্রদলের বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে আসছেন। বিশেষ করে ২০১৪–১৫ সালের আন্দোলন, ২০১৮ সালের নির্বাচন এবং ২০২৩–২৪ সালের বিভিন্ন আন্দোলনে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন।

 

সাম্প্রতিক জুলাই–আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের সময়ও আন্দোলনের শুরু থেকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেন তিনি। জিরো পয়েন্ট ব্লকেড, শাহবাগ অভিমুখে ব্যারিকেড ভেঙে মিছিল, তাঁতিবাজার ও লক্ষ্মীবাজার এবং শহীদমিনার এলাকায় বিক্ষোভসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন বলে জানান তিনি।

 

রুমি বলেন, “২০১৫ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি আন্দোলনের কর্মসূচি সফল করতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে নয়ন বাছার নামে এক কর্মী গুলিবিদ্ধ হন। সেদিন আমি ভাগ্যক্রমে বেঁচে ফিরে আসি।”

 

তিনি আরও বলেন, বিএনপির সাবেক চেয়ারপার্সন মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার আদালতে হাজিরার দিনগুলোতেও তিনি রাজপথে সক্রিয় ছিলেন এবং সে সময়ও গ্রেফতারের মুখোমুখি হয়েছেন। ধোলাইখাল এলাকায় পিকেটিং করতে গিয়ে একপর্যায়ে তার হাত কেটে যায় এবং চিকিৎসক তাকে পাঁচটি সেলাই দেন।

 

বিপ্লব-পরবর্তী সময়ে ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে শিক্ষার্থীবান্ধব ও মানবিক রাজনীতি করার চেষ্টা করেছেন বলেও জানান তিনি।

 

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে রুমি বলেন, “ক্যাম্পাস আমার কাছে শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়; এটি ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরির সংগ্রামের মঞ্চ। আমি এমন একটি ক্যাম্পাস দেখতে চাই, যেখানে শিক্ষার্থীদের অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত হবে।”

 

তিনি বলেন, একজন ছাত্রনেতার প্রধান দায়িত্ব শিক্ষার্থীদের কণ্ঠস্বর হওয়া। আবাসন, বৃত্তি, শিক্ষা ও ন্যায্য সুযোগসহ শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন অধিকার আদায়ে পাশে থেকে কাজ করে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি।

 

ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের কাছে শিক্ষার্থীবান্ধব ছাত্রনেতা ও ক্লিন ইমেজের সংগঠক হিসেবে মো. মোস্তাফিজুর রহমান রুমি সুপরিচিত। শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায় ও ন্যায্য দাবি প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকার কারণে তিনি শিক্ষার্থীদের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করেছেন বলে সহপাঠীরা মনে করেন।

 

শিক্ষার্থীরা ও নেতাকর্মীরা মনে করেন, রুমির মতো শিক্ষার্থীবান্ধব ও ক্লিন ইমেজের সংগঠকদের দায়িত্ব দেওয়া হলে সংগঠনের হারানো গৌরব ও ঐতিহ্য পুনরুদ্ধার হবে এবং সংগঠন আরও শক্ত ও সুসংগঠিত হবে।

মন্তব্য

সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর

Developed By: Dotsilicon